বালুরঘাট, ২৪ ফেব্রুয়ারী —– দুয়ারে রেশন প্রকল্পে একমাস ধরে চাল ও আটা না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রাহকরা। রেশন ডিলারকে ঘিরে বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে সরগরম হয়ে ওঠে বালুরঘাট শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পড়তে হয় রেশন ডিলারকেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুয়ারে রেশন দিতে এলাকায় আসেন এক রেশন ডিলার। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট রেশন দোকানে প্রায় একমাস ধরে চাল ও আটা মিলছে না। গ্রাহকদের দাবি, প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের বদলে আটা, ছোলা বা অন্য সামগ্রী দিয়ে দায় সারার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে ক্ষোভ জমে ওঠে বাসিন্দাদের মধ্যে।
ক্ষুব্ধ গ্রাহক অজিত দাসের অভিযোগ, “আমরা গরিব মানুষ, রেশনের চালেই সংসার চলে। অথচ বলা হচ্ছে মাল ঘাটতি। কাউকে দেওয়া হচ্ছে, কাউকে নয়। আগের মাসের স্লিপ নিয়েও এখনও চাল পাইনি। তাঁর দাবি, সরকারি বরাদ্দ স্বচ্ছভাবে বণ্টন করতে হবে।
অপর এক গ্রাহক পলাশ সরকার জানান, “আমাদের পরিবারে দু’টি রেশন কার্ড রয়েছে। মাসের পর মাস চাল ও গম পাচ্ছি না। ছোলা বা ময়দা দিয়ে সংসার চলে না। আমরা শুধু ন্যায্য প্রাপ্য চাই।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেশন ডিলার রাকেশ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, মাল এলেই বিতরণ করা হয়। অনেকেই জিনিসের বদলে টাকা নেন, এখন টাকা না পেয়ে অযথা অভিযোগ তুলছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা খাদ্য দপ্তরও নড়েচড়ে বসেছে। খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক জিগমি লেপচা জানান, অভিযোগের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
খাদ্যসুরক্ষার ভরসা হয়ে ওঠার কথা ছিল ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পের। কিন্তু কদমতলার এই অশান্ত সকাল যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল— সরকারি রেশন কি সত্যিই পৌঁছচ্ছে দরিদ্র মানুষের হাঁড়িতে, নাকি পথে কোথাও আটকে যাচ্ছে তাদের অধিকার?























