বালুরঘাট, ২১ ফেব্রুয়ারী —শ্রেণিকক্ষের ভিতরেই শিক্ষককে ছাত্রীর সপাটে চড়—তারপর শিক্ষকের নাকখত দিয়ে ভুল স্বীকার! দক্ষিণ দিনাজপুর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাট হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ক্লাসরুমে ঘটে যাওয়া এমনই এক বিস্ফোরক ঘটনার ভিডিও। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, প্রশ্ন এবং জল্পনা।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই শিক্ষক অনুপম মুখার্জিকে চড় মারছেন। আশ্চর্যের বিষয়, শিক্ষক কোনও প্রতিবাদ না করে উল্টে কাকুতি-মিনতি করছেন এবং নাকখত দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করতেও দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট এখনও স্পষ্ট না হলেও, ভিডিও সামনে আসতেই শিক্ষকমহল থেকে অভিভাবক সমাজ—সব মহলেই তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
সূত্রের দাবি, ওই ছাত্রীর উদ্দেশে শিক্ষক নাকি একাধিক অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। তার প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয় ছাত্রী ও তার পরিবার। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষক নাকখত দিয়ে ক্ষমা চান বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা প্রশাসনিকভাবে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
জেলার অন্যতম প্রাচীন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৃজিত সাহা জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় তদন্তে সামান্য সময় লাগলেও দ্রুত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে পরিচালন সমিতির সভাপতি সুভাষ চাকি বলেন, ঘটনার কথা আগে জানা ছিল না। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “যদি কোনও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে থাকে, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্য কী—তা জানার অপেক্ষায় এখন গোটা জেলা। শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে উঠছে বড় প্রশ্ন।

























