প্রাথমিক শিক্ষক বদলিকে ঘিরে দুর্নীতির গন্ধ,প্রিয় শিক্ষিক শিক্ষিকাকে সরানোর অভিযোগে বংশীহারী আলিগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’দিন ধরে তালাবন্দি স্কুল

0
11

প্রাথমিক শিক্ষক বদলিকে ঘিরে দুর্নীতির গন্ধ,প্রিয় শিক্ষিক শিক্ষিকাকে সরানোর অভিযোগে বংশীহারী আলিগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’দিন ধরে তালাবন্দি স্কুল।
আন্দোলনে ছাত্র-অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা,প্রশ্নের মুখে ডিপিএসসির ভূমিকা
শীতল চক্রবর্তী ২১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে ঘিরে এবার প্রকাশ্যে উঠল দুর্নীতির অভিযোগ।প্রিয় শিক্ষিকাকে আটকাতে দু’দিন ধরে পঠন পাঠন বন্ধ রেখে তালা ঝুলছে স্কুলে।আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। প্রশ্ন উঠছে,এই সমস্যার সমাধান করবে কে?
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর শহরের ৯নম্বর ওয়ার্ডের আলিগড়া এলাকায় অবস্থিত বহু পুরনো আলিগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। শিক্ষক বদলিকে ঘিরে সেখানে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে পরিস্থিতি।
ছাত্রসংখ্যা বাড়ালেন যিনি, তাকেই কেন হঠাৎ করে এমনভাবে বদলির নির্দেশ জারি করেছে জেলা ডিপিএসসি দপ্তর?
কয়েক বছর আগেও ছাত্রসংখ্যা কমতে কমতে ২০২৫ সালে ওই স্কুলে মাত্র ৩০জনে দাঁড়িয়েছিল। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত হওয়ার পর স্কুলের দায়িত্ব সামলাতে এগিয়ে আসেন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মিঠু পাল।
২০২০সাল থেকে এই স্কুলে কর্মরত মিঠু পাল পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে গিয়ে ছাত্রছাত্রী সংগ্রহ করে ২০২৬ সালে ছাত্রসংখ্যা বাড়িয়ে ৪২জনে নিয়ে যান। ২০২৫ সালে নিমাই চন্দ্র চৌধুরী প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুলে আসেন যদি ঐ শিক্ষক ২০২৮ সালে চাকরি মেয়াদ শেষ হবে বলে জানা গেছে। ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষিকা মনিকা শেরিনা
মুর্শিদাবাদ থেকে আসা শিক্ষক নজিবুর রহমান শিক্ষকতা করছেন।
২০২৩সালে ছিরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে (ড্রাফট)দায়িত্বে আসা শিক্ষিকা তনুশ্রী পাল শিক্ষকতাও করছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রাফটের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাকে বদলি না করে, যাঁরা স্কুলের উন্নয়নে ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদেরই অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।গ্রামবাসীদের দাবি“মিঠু ম্যামকে যেতে দেব না।”গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন—সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মিঠু পালকে অন্যত্র বদলি করা হলে তারা তা মানবেন না। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি করা হোক, কিন্তু যিনি স্কুলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁকেই কেন সরানো হবে?
স্থানীয় বাসিন্দা নুর নাহার বিবি, আলাউদ্দিন মিয়া ও জরিনা বিবি বলেন,“প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়ার পর থেকে একাই স্কুল সামলেছেন মিঠু ম্যাম। ড্রাফটের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাকে না সরিয়ে স্কুলের উন্নয়নকারী শিক্ষিকাকে বদলি করার কোনও যুক্তি নেই। দাবি না মানা হলে স্কুল খুলতে দেব না।”
স্কুলের ছাত্রী জয়ীতা পারভিন জানায়,“আমাদের প্রিয় মেমকে অন্য স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে শুনে আমরা কষ্ট পেয়েছি। মেম ভালো পড়ান, ভালো ব্যবহার করেন। আমরা চাই মেম এখানেই থাকুন।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজনারায়ণ গোস্বামী অভিযোগ করে বলেন,“ড্রাফটের শিক্ষক দীর্ঘদিন স্কুলে থাকলেও তাঁকে বদলি করা হচ্ছে না। বরং নিয়ম ভেঙে পুরনো ও দক্ষ শিক্ষকদের সরানো হচ্ছে।এই অন্যায় মেনে নেওয়া যাবে না। ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের অনেকেই জড়িয়ে রয়েছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রী দিয়ে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় জ্বালিয়েছি।”
সব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা জানান,“আমরা বিষয়টি দেখছি। ড্রাফটের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাকে তাঁর পূর্বের স্কুলে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। কেন দুদিন ধরে পটল পটল বন্ধ রয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।”
তবুও প্রশ্ন উঠছে,
তাহলে এতদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না?বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
তাহলে কি সত্যিই সর্ষের মধ্যেই রয়েছে আসল ভূত?
প্রাথমিক শিক্ষক বদলিকে ঘিরে এই ঘটনায় এখন তোলপাড় গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা।সকলের নজর এখন ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের কাঁধে—তিনি আদৌ এই জট খুলতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here