বালুরঘাট, ১৩ ফেব্রুয়ারী —– নাটকের শহর বালুরঘাটে এবার নাট্যমঞ্চ নয়, বিতর্কের কেন্দ্র পুরসভা। ফুড প্লাজা প্রকল্প থেকে ‘নাট্য সংবাদ কক্ষ’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডেই প্রকাশ্যে মতভেদ সামনে আসায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। শহরের উন্নয়ন নিয়ে হতাশ নাট্যব্যক্তিত্বরা, বেনজির আক্রমণ তৃণমূল কাউন্সিলরদের। যাকে ঘিরে রীতিমতো সরগরম এখন বালুরঘাট শহর।বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে কিছুটা অস্বস্তিতে শাসকদল।
বৃহস্পতিবার বালুরঘাট পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলরের বৈঠককে ঘিরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের শুরুতে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনের গলিতে আধুনিক ফুড প্লাজা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন পুরবোর্ড। প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক কুমার মিত্রের উদ্যোগে নেওয়া সেই পরিকল্পনায় ফুড প্লাজার ভিতরে ‘নাট্য সংবাদ কক্ষ’ ও ‘পৌর সংবাদ কক্ষ’ তৈরির লিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল শহরের সমৃদ্ধ নাট্য ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং নাগরিকদের জন্য তথ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক আর্কাইভ তৈরি করা।
থানা মোড় এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই পুরসভার চেয়ারম্যান পদে রদবদল ঘটে। দায়িত্ব নেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুরজিত সাহা ওরফে বাবু সাহা। তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড বৈঠকেই ফুড প্লাজা থেকে ওই দুই সংবাদ কক্ষ সরানোর প্রস্তাব ওঠে। বৈঠকে প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র সহ কয়েকজন কাউন্সিলর নাটকের শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখতে নাট্য সংবাদ কক্ষ রাখার পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলররা ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব বাতিল হয়। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই সভা ত্যাগ করেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান সহ কয়েকজন কাউন্সিলর। যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরের নাট্যজগতেও শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। শহরজুড়ে অনুন্নয়নের প্রশ্ন তুলে তৃণমূল কাউন্সিলরদের বেনজির আক্রমণ করতেও শোনা গেছে নাটকের সাথে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে। তাদের কথায়, শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডে উন্নয়নের ছোয়া পর্যন্ত পরেনি অথচ ফুলে ফেঁপে উঠছে কিছু কাউন্সিলর। যারা আগে রেশনের চালের ভাত খেত তারা এখন তুলাইপাঞ্জি চালের ভাত খাচ্ছে।
নাট্যব্যক্তিত্ব দেবাশীষ অধিকারী ও জিষ্ণু নিয়োগীর অভিযোগ, “দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর নেওয়া একটি সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্তকে হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। এতে বালুরঘাটের নাট্যপরিচয়ই আঘাত পেল।”
তাঁদের আরও দাবি, শহরের বহু ওয়ার্ডে উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান নয়, অথচ জনপ্রতিনিধিদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো—যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, “নাট্য সংবাদ কক্ষ ও পৌর সংবাদ কক্ষ করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছিল। এখন সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর কারণ বর্তমান চেয়ারম্যানই ব্যাখ্যা করবেন।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান সুরজিত সাহার বক্তব্য, ফুড প্লাজা শুধুমাত্র খাবারের কেন্দ্র হিসেবেই গড়ে উঠবে। তবে নাট্য সংবাদ কক্ষ বাতিল নয়, শহরের অন্যত্র তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—নাটকের শহরে সংস্কৃতি না উন্নয়ন, কোনটা অগ্রাধিকার পাবে? নির্বাচনের আগে সেই বিতর্কেই সরগরম বালুরঘাট।























