শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ১০ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।সরকারিভাবে অনুমোদিত নদীঘাট এখনো চালু না হলেও অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে গঙ্গারামপুর থানার পূর্ণভবা নদীঘাটে।সেই অবৈধ বালি নিয়ে যাবার সময় ট্রাক্টরের ধাক্কায় গুরুতর আহত নাসারি পড়ুয়া টোটো চালক-সহ আরও দু’জন।ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঙ্গারামপুরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার গঙ্গারামপুর থানার ১৫নম্বর ওয়ার্ডের শিববাড়ি বাজার এলাকায়।অভিযোগ, কেশবপুরের মাহুরকিসমত এলাকার পূর্ণভবা নদীঘাট থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে বহন করা হচ্ছিল।ট্রাক্টরের নম্বর থাকলেও ট্রলির কোনও নম্বর ছিল না। সেই সময় বালি বোঝাই ট্রাক্টর একটি টোটোকে ধাক্কা মেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দোকানে ঢুকে যায়।এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় টাকিপুর (চাম্পাতলি) গ্রামের বাসিন্দা, গঙ্গারামপুর শহরের চিত্তরঞ্জন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নাসারি বিভাগের ছাত্র দীপরোজ্যোতি গোস্বামী (৫)।তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতাল কালদিঘীতে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন টোটো চালক-সহ আরও দু’জ
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মদতে দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালি তোলা ও মজুত করা হচ্ছিল।সরকারি ভাবে পূর্ণভবা নদীঘাটের রয়্যালটি নিয়ে বালি তোলার টেন্ডার পাওয়া কলকাতার বাসিন্দা ঠিকাদার তাপস বিশ্বাসের দাবি,তাঁরা এখনো সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী কোনও ঘাট চালু করেননি।কিন্তু গত দু’মাস ধরে মাহুরকিসমত এলাকায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ঘাট তৈরি করে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি অবৈধভাবে চলা ট্রাক্টরে করে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
তাপস বিশ্বাসের দাবি, এই বিষয়ে নাসেদ ও হালিম-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বহুদিন আগেই একাধিক জায়গায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য,“সময়মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। আমরা চাই অবৈধঘাট অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালি তোলার ফলে মাহুরকিসমত এলাকার নদীপাড়ের সরষে চাষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি, বালি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচলের কারণে রাস্তায় বালি পড়ে থাকছে, যার জেরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্কুলগুলো সামনে চলাচল করা বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আহত শিশুর আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।” যদিও অভিযুক্ত নাসেদ ও হালিম তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এড়িয়ে গিয়েছেন।
এবিষয়ে গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার জানান,
“ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এখন দেখার এটাই যে,শেষ পর্যন্ত বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধে কে সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর অবৈধ বালি পাচার চলাকালীন ট্রাক্টরের ধাক্কায় গুরুতর আহত নাসারি পড়ুয়া সহ তিনজন,...























