বালুরঘাট, ১০ ফেব্রুয়ারী —- বিধায়ক তহবিলের সোলার লাইট মাত্র ছমাসেই বিকল। আর যার জেরে সন্ধ্যা লাগতেই অন্ধকারে ডুবছে এলাকা। ঘটনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে বাসিন্দারা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হিলি ব্লকের তিওড় এলাকার। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের জেরেই সোলার লাইট গুলির এমন বেহাল অবস্থা। তৃণমূল অবশ্য এই ঘটনাকে বিজেপি বিধায়কের অপরিকল্পিত কাজ বলেই উল্লেখ করেছে। যদিও যন্ত্রাংশের জিনিস খারাপ হতেই পারে বলে পালটা মন্তব্য বিজেপিরও।
জানা গেছে বালুরঘাট বিধানসভার অন্তর্গত বাংলাদেশ লাগোয়া এই হিলি ব্লকেই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় বিধায়ক অশোক লাহিড়ী তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। যার মধ্যে হাটের শেড, পানীয় জলের প্রকল্প ছাড়াও ১৩৫ টি সোলার লাইট বসানো হয়েছে। যে সোলার লাইটেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তিওড়ের বাসিন্দারা। কেননা এই তিওড় এলাকাতেই বসানো হয়েছে অধিকাংশ সোলার লাইটগুলি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাত্র ছমাসেই যেগুলির অধিকাংশ বিকল হয়ে গিয়েছে। আর যার জেরে সন্ধ্যার পর তিওড় বাজার সহ বেশকিছু এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। শুধু তাই নয়, তাদের আরো অভিযোগ বিধায়ক তহবিলের সোলার লাইট বসানোর বহু আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সোলার লাইট বসেছে এলাকায়। যেগুলো আজো অক্ষতভাবে আলো দিচ্ছে, কিন্তু অদ্ভুতভাবে বিধায়ক তহবিল থেকে বসানো সোলার লাইটগুলি মাত্র ছমাসেই বিকল হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিত কর ও দুলাল শীলদের অভিযোগ, মাত্র ছ’মাসে এতগুলি সোলার লাইট খারাপ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্নীতি না হলে এমনটা হওয়ার কথা নয়।
তাদের আরও একটি গুরুতর প্রশ্ন, বিধায়ক তহবিলের সোলার লাইট বসানোর বহু আগেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে এলাকায় সোলার লাইট বসানো হয়েছিল। সেগুলি আজও নিয়মিতভাবে আলো দিচ্ছে। অথচ নতুন করে বসানো বিধায়ক তহবিলের লাইটই কেন এত দ্রুত বিকল হয়ে গেল।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ককে কাঠগড়ায় তুলেছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অশোক মিত্র কটাক্ষ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন মানুষ চোখে দেখছে—লক্ষ্মীর ভান্ডারের মেসেজ মোবাইলে বাজছে। কিন্তু বিজেপি বিধায়কদের উন্নয়ন কোথাও জ্বলে না, কোথাও বাজে না। এটা পুরোপুরি অপরিকল্পিত কাজের ফল।
বিজেপি নেতা জয়ন্ত প্রামানিকের অবশ্য দাবি, যন্ত্রাংশের জিনিস খারাপ হতেই পারে। দ্রুত সেগুলো মেরামত করবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তবে সীমান্তের এই গ্রামের মানুষের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বিধায়ক তহবিলের কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হলে, ছ’মাসেই কেন নিভে যাবে সেই আলো? তবে কি উন্নয়নের নামে দায়সারা কাজ, না কি গভীর দুর্নীতি—উত্তরের অপেক্ষায় আজ তিওড়।























