বালুরঘাট, ৭ ফেব্রুয়ারী —- মৃ*ত্যুকে হাতছানি দিয়েও ফিরলেন জীবনের পথে। শনিবার বিকেলে বালুরঘাট শহরের চকভৃগু এলাকায় আত্রেয়ী নদীর ব্রীজে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাকে ঘিরে এখনও আতঙ্ক ও আবেগে কাঁপছে এলাকা। আ*ত্মহ*ত্যা*র উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক যুবক। কিন্তু এক সাধারণ গাড়িচালকের অসাধারণ তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত বাঁচল একটি প্রাণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় শাঁখা ব্যবসায়ী সম্রাট পাল এদিন আচমকাই আত্রেয়ী ব্রীজে উঠে পড়েন। পথচলতি মানুষজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সোজা নদীতে ঝাঁ*প দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ব্রীজ দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ গাড়িচালক ইন্দ্রজিৎ রায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি থামিয়ে ছুটে যান যুবককে ধরতে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি, তবে তাঁর চিৎকারেই ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এরপর কয়েকজন সাহসী মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েন নদীতে। তড়িঘড়ি উ*দ্ধা*র করা হয় সম্রাট পালকে। অল্পবিস্তর আ*ঘা*ত পেলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। খবর দেওয়া হয় পরিবারের লোকজনকে। তাঁরা দ্রুত এসে আ*হ*ত যুবককে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
আহত সম্রাট পাল জানান, আমি আর বাঁচতে চাই না। পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।
গাড়িচালক ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, সময় নষ্ট করার সুযোগ ছিল না। ছেলেটির প্রাণ বাঁচানোই তখন একমাত্র কাজ ছিল। ব্রীজের উপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাবার সময় দেখছিলেন ওই যুবক ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে পড়েছে ঝাঁ*প দেওয়ার জন্য। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তাকে ধরবার চেষ্টা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে তার চিৎকারে লোকজন নদীতে নেমে ওই যুবককে বাচিয়েছে। সামান্য আঘাত লেগেছে ঠিকই, কিন্তু জীবনটা বেচে গিয়েছে।
তবে ওই গাড়ি চালকের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসায় মুখর হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। আত্রেয়ীর বুকে এদিন ওই যুবকের মৃ*ত্যু ঝাঁ*প শেষ পর্যন্ত রুখে দিয়েছে গাড়ি চালকের মানবিকতা।
























