বালুরঘাট, ২ ফেব্রুয়ারী —- ধান-পাটের অনিশ্চিত বাজার ছেড়ে বিকল্প চাষের পথে হেঁটে লক্ষ্মীপুরে এক নতুন কৃষি-জাগরণ ঘটালেন কৃষক অরবিন্দ সরকার। পতিরামের লক্ষ্মীপুর গ্রামের এই উদ্ভাবনী চাষি প্রমাণ করে দিলেন—সাহস আর আধুনিক চিন্তাভাবনা থাকলে কৃষিই হতে পারে স্থায়ী আয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। নতুন কিছু করার নেশাই বরাবর আলাদা করেছে অরবিন্দ বাবুকে। কয়েক বছর আগেই আপেল ও কাশ্মীরি কুল চাষ করে জেলার চমক হয়েছিলেন তিনি। চলতি মরশুমে সেই কুলের ফলনে লক্ষ্মীপুর যেন ছোটখাটো ফলের হাটে পরিণত হয়েছে। ৫১২ জাতীয় সড়কের ধারে সারি সারি দোকানে সকাল থেকে সন্ধ্যা ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে বহু মানুষ আজ এই বিকল্প চাষে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এবার আরও চমক। বাড়ির পাশের উঁচু জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা হয়েছে থাইল্যান্ড থেকে আনা থাই সুপার আর্লি কাঁঠাল ও থাই কাটিমন আমের গাছ। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই অবাক করা ফলন। পাঁচ ফুট উচ্চতার গাছে পাতার চেয়ে যেন কাঁঠালই বেশি—গোড়া থেকে ডালভরা ঝুলছে ভারী ফল। ফলের ওজনে নুয়ে পড়ছে গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনও বিদেশি ফলের বাগান।
সবচেয়ে বড় চমক এখানেই শেষ নয়। এই কাঁঠাল ও আম মিলছে বছরের বারো মাসই। অসময়ের ফল হওয়ায় বাজারদর আকাশছোঁয়া। অরবিন্দ বাবুর হিসেব বলছে, গাছের বয়স তিন বছর পূর্ণ হলে প্রতিটি কাঁঠাল গাছ থেকেই গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। খরচ কম, পরিচর্যাও সহজ, রোগবালাইয়ের ঝামেলা প্রায় নেই—অথচ লাভের অঙ্ক অন্য যেকোনো চাষের তুলনায় অনেক বেশি।
যেখানে ধান-পাটের দাম পড়ে গেলে কৃষকরা লোকসানে পড়েন, সেখানে এই বিকল্প চাষে লাভের মুখ দেখছেন সবাই। তাই তিনি সকল কৃষককে গতানুগতিক চাষ ছাড়িয়ে আধুনিক ও লাভজনক চাষের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে অরবিন্দ সরকারের এই প্রয়াস শুধু ফসল নয়—ফলাচ্ছে স্বপ্ন, বদলাচ্ছে গ্রামের অর্থনীতির ছবি।






















