বালুরঘাট, ২৮ জানুয়ারী —- প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মতো কেন্দ্রের স্বপ্নের প্রকল্পে সরকারি নিয়মকানুনকে কার্যত পদদলিত করে বালুরঘাটে চলছে বিতর্কিত রাস্তা নির্মাণ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের মাঝিগ্রাম এলাকায় পিচের রাস্তার বদলে নিম্নমানের ঢালাই রাস্তা তৈরির অভিযোগ ঘিরে তুমুল হইচই। কয়েকশো গ্রামবাসী একযোগে কাজ বন্ধের ডাক দিয়েছেন। উত্তর মাঝিগ্রাম, দক্ষিণ মাঝিগ্রাম ও সাতরাই—এই তিন গ্রামের মানুষ উন্নয়নের নামে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গ্রামাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল বদলের লক্ষ্যে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত পিচের রাস্তা পৌঁছে দেওয়া। অথচ মাঝিগ্রামে সেই প্রকল্প যেন পরিণত হয়েছে ঠিকাদারি লুটের সহজ রাস্তা বলে অভিযোগ। মালঞ্চা থেকে মাঝিগ্রাম হয়ে অযোধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সরকারি নির্দেশিকা স্পষ্টভাবে বলছে, এই রাস্তা হবে সম্পূর্ণ পিচের। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—পুরনো ঢালাই রাস্তার উপরেই দায়সারা ভাবে নতুন ঢালাই চাপিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের বালি ও সামগ্রী। ফলে এই রাস্তা দীর্ঘদিন টিকবে না বলেই আশঙ্কা। হৃদয় বর্মন বলেন, “সরকার আমাদের জন্য পিচের রাস্তার অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ঢালাই করে টাকা বাঁচিয়ে পকেট ভারী করছে।” আশা সরকার জানান, কয়েক মাস ধরে কাজ চললেও কেউ নজরদারি করতে আসেনি। রবীন্দ্রনাথ সরকারের কথায়, “নিয়ম ভেঙে কাজ হলেও প্রশাসন নীরব।”
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, অনিয়মের খবর জানার পরেও জেলা পরিষদ কার্যত চোখ বন্ধ করে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও সভাধিপতি চিন্তামনি বিহা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যদিও অভিযুক্ত ঠিকাদার সংস্থার দাবি, তারা সরকারি নির্দেশ মেনেই কাজ করছে এবং অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তবে গ্রামবাসীদের স্পষ্ট অবস্থান—পিচের রাস্তা না হলে নির্মাণকাজ বন্ধ হবে। উন্নয়নের নামে দুর্নীতি আর সহ্য করবে না মাঝিগ্রামের মানুষ। প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে মাঝিগ্রামের মানুষ।
Home দক্ষিণ দিনাজপুর বালুরঘাট পাঁচ কোটির প্রকল্পে পিচ উধাও! বালুরঘাটের মাঝিগ্রামে গ্রাম সড়ক যোজনার নামে ঢালাইয়ের...
























