কেন্দ্রীয় প্রকল্পে জমি দেবার পাঁচবছরেও মেলেনি চাকরি, বন্ধ কৃষকদের রুজিরোজগার! হাড়কাঁপানো শীতে রেললাইনে শুয়ে ক্ষোভ, অচল বালুরঘাট সাইলো

0
13

কেন্দ্রীয় প্রকল্পে জমি দেবার পাঁচবছরেও মেলেনি চাকরি, বন্ধ কৃষকদের রুজিরোজগার! হাড়কাঁপানো শীতে রেললাইনে শুয়ে ক্ষোভ, অচল বালুরঘাট সাইলো

বালুরঘাট, ১৩ জানুয়ারী —– কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে চাকরির লিখিত আশ্বাস। সেই ভরসাতেই আবাদি জমি তুলে দিয়েছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কাজ, উল্টে বন্ধ হয়েছে চাষবাস, থমকে গিয়েছে রুজিরোজগার। চরম হতাশা আর ক্ষোভে তীব্র শীত উপেক্ষা করে রেললাইনে শুয়ে দিনরাত এককরে আন্দোলনে নামলেন জমিদাতা কৃষকেরা। সোমবার রাত থেকে বালুরঘাট রেলস্টেশন সংলগ্ন কাটনা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ছড়ায় তীব্র উত্তেজনা। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বালুরঘাটের সাইলো গোডাউন।

জানা গেছে, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার অধীনস্থ এই সাইলো গোডাউন নির্মাণের জন্য ২০২১ সালে বালুরঘাটের বোয়ালদাড় মৌজার প্রায় ৪৮ বিঘা উর্বর আবাদি জমি নেওয়া হয়েছিল এলাকার আদিবাসী কৃষকদের কাছ থেকে। শর্ত ছিল—প্রতিটি জমিদাতা পরিবার থেকে একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। লিখিত চুক্তির উপর ভরসা রেখেই প্রায় ৪০ জন কৃষক তাঁদের জীবনের একমাত্র অবলম্বন জমি তুলে দিয়েছিলেন সাইলো কর্তৃপক্ষের হাতে। চাষের জমি হারালেও সরকারি চাকরির আয়ে সংসার চলবে—এই আশাতেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছিলেন তাঁরা।
কিন্তু অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও কোনও পরিবারেই মেলেনি চাকরি। একের পর এক দরবার, স্মারকলিপি, আন্দোলন—সবই নাকি ব্যর্থ। কৃষকদের অভিযোগ, সাইলো কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ করেনি। শেষমেশ সোমবার বিকেল থেকে ক্ষুব্ধ জমিদাতারা সাইলো গোডাউন পুরোপুরি তালাবন্ধ করে দেন। রাতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। প্রবল শীত উপেক্ষা করে রেললাইনে শুয়ে পড়ে দিনরাত এক করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারী কৃষকদের সাফ কথা—চাকরি না হলে জমি ফিরিয়ে দিতে হবে। সাঞ্চু এক্কা, সুশীল লাকড়া, মঙ্গল এক্কা ও বলরাম হালদারদের অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে কার্যত চাপ সৃষ্টি করেই জমি নেওয়া হয়েছিল। আজ জমি নেই, কাজ নেই—অনিশ্চয়তায় কাটছে প্রতিটি রাত। দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

যদিও সাইলো কর্তৃপক্ষের তরফে বিশ্বজিৎ সূত্রধরের দাবি, কৃষকদের যে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা করতে তাঁরা রাজি নন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক ব্যাখ্যায় আপাতত গলছে না ক্ষোভ। জমি-জীবিকা হারানো কৃষকদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ এই সাইলো গোডাউন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here