ইস্তফার পরেও অনাস্থা! বালুরঘাট পুরসভায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগে তুমুল বিতর্ক

0
59

বালুরঘাট, ১০ জানুয়ারী —- চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পরেও অনাস্থা বৈঠক—এই বিরল ও বিতর্কিত ঘটনায় শনিবার রীতিমতো চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বালুরঘাট পুরসভা চত্বর। পুর আইনের নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে কীভাবে অনাস্থা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো, সেই প্রশ্নে সরগরম গোটা শহর। সভা চলাকালীন কাঁদতে কাঁদতে এক মহিলা কাউন্সিলরের সভাস্থল ত্যাগ করা ঘিরে আরও ঘনীভূত হয় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য।
২৫ ওয়ার্ডের বালুরঘাট পুরসভায় ২৩টি ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন অশোক মিত্র। তাঁর বিরুদ্ধেই দলের ১৪ জন কাউন্সিলর অনাস্থা আনেন। সেই অনাস্থা নিয়ে গত ২২ ডিসেম্বর একটি নির্দেশিকা পাঠায় মহকুমাশাসকের দফতর। কিন্তু অনাস্থা নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ১৫ দিনের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই, ৩১ ডিসেম্বর দলীয় নির্দেশ মেনে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র এবং তা মহকুমাশাসকের কাছে জমা দেন।
স্বাভাবিকভাবেই চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর অনাস্থা প্রস্তাবের আর কোনও আইনি গুরুত্ব থাকার কথা নয়। অথচ অভিযোগ, অনাস্থা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তৎপর হয়ে ওঠেন তৃণমূলের একাংশ কাউন্সিলর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরের ঠিক আগের দিন তিন কাউন্সিলর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দেন। সেই চিঠি পেয়েই শনিবার সুবর্ণতটে তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে বসেন এক্সিকিউটিভ অফিসার অজয় কুমার প্রসাদ।
এই বৈঠকেই চেয়ারম্যান অশোক মিত্র তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করলে, বোর্ড অফ কাউন্সিলের মাধ্যমে তা ‘পাশ’ করানো হয়। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলে, ১৫ দিনের মধ্যে স্বয়ং চেয়ারম্যানকেই একটি বৈঠক ডেকে সেই পদত্যাগপত্র অনুমোদনের প্রস্তাব আনতে হয়। অভিযোগ, সেই নিয়ম একেবারেই মানা হয়নি। বরং পুর আইনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বোর্ড অফ কাউন্সিলের ডাকা অনাস্থা বৈঠকেই পদত্যাগপত্র পাশ করানো হয়েছে।

চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের দাবি, “আমি পদত্যাগপত্র দিয়েছিলাম, সেটাই আজ বোর্ডের বৈঠকে পাশ হয়েছে।

পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার অজয় কুমার প্রসাদ বলেন, “২৩ জন কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। অনাস্থা প্রক্রিয়া ও চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র উভয়ই পাশ করা হয়েছে। আগামী সাতদিন তিনি নিজেই দায়িত্বে থাকবেন। এই সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান গঠনের বৈঠক ডাকতে হবে অশোক মিত্রকে। তা না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে প্রশ্ন একটাই—নিয়ম মেনে না কি রাজনৈতিক তাড়াহুড়োয় সিদ্ধান্ত? সেই বিতর্কেই এখন উত্তাল বালুরঘাট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here