পিএলভির উদ্যোগে স্কুলছুট এক কিশোরীসহ তিনজনকে স্কুলে ফেরানো হলো

0
50

পিএলভির উদ্যোগে স্কুলছুট এক কিশোরীসহ তিনজনকে স্কুলে ফেরানো হলো
শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট ২ জানুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।
বিদ্যালয় ছুট এক কিশোরীসহ তিনজন কিশোর-কিশোরীকে পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে শিক্ষার আলো দেখানোর উদ্যোগ নিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের প্যারালিগাল ভলান্টিয়ার (পিএলভি) গোলাম রাব্বানীর উদ্যোগে শুক্রবার দুপুরে গঙ্গারামপুর ব্লকের চালুন গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মির্জাপুর গ্রামে এই মানবিক কর্মসূচি রূপায়িত হয়।
মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে মোস্তাক মিঞা আর্থিক অনটনের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের পিএলভি গোলাম রাব্বানী মোস্তাক মিঞাকে মির্জাপুর জুনিয়র হাইস্কুলে এদিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন।
একই দিনে গঙ্গারামপুর ব্লকের মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মুসকারিমকে মির্জাপুর জুনিয়র হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে এবং স্থানীয় স্কুলছুট কিশোরী ইতি মাহাতকেও একই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়।আর্থিক দুরবস্থার কারণেই এই তিনজন পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি কেয়া বালার নির্দেশে এদিন ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই, খাতা, কলম, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
মোস্তাকের বাবা মতিউর রহমানসহ অন্যান্য অভিভাবকেরা বলেন,
“আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়াতে পারছিলাম না। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ যেভাবে সহযোগিতা করেছে, তাতে আবার সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারলাম।”
এবিষয়ে পিএলভি গোলাম রাব্বানী বলেন,“আমরা সারা বছরই এই ধরনের কাজ করে থাকি। খবর পাওয়া মাত্রই স্কুলছুট পড়ুয়াদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পুনরায় স্কুলে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করা হয়।”
মির্জাপুর জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমলচন্দ্র রায় বলেন,“পিএলভি গোলাম বাবু স্কুলছুট পড়ুয়াদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে যে সহযোগিতা করেছেন,তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
পিএলভি গোলাম রাব্বানীর এই মানবিক উদ্যোগকে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা সর্বত্র তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here