অমৃত ভারত প্রকল্পে ধীরগতি! বালুরঘাট স্টেশনে ডিআরএমের অসন্তোষ

0
51

অমৃত ভারত প্রকল্পে ধীরগতি! বালুরঘাট স্টেশনে ডিআরএমের অসন্তোষ, ক্ষোভে ফুঁসছে যাত্রীরা

বালুরঘাট, ২৮ অগস্ট —আধুনিকীকরণের স্বপ্ন দেখিয়ে অমৃত ভারত প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছিল বালুরঘাট রেলস্টেশনে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উন্নয়ন যেন এখনও কাগজেই সীমাবদ্ধ। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এসে খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের রিজিওনাল ম্যানেজার কিরেন্দ্র নারহা। তিনি স্পষ্ট জানালেন, কাজের অগ্রগতি মোটেই সন্তোষজনক নয়, প্রয়োজনীয় শ্রমিকও মাঠে নেই, আর শৌচালয়ের অবস্থা শোচনীয়। কার্যত যাত্রী–অসুবিধার চিত্রই তাঁর প্রথম পরিদর্শনে সামনে এল।

২০০৪ সালে ভারতীয় রেলের মানচিত্রে নাম লেখায় বালুরঘাট। গৌড় লিংক এক্সপ্রেস দিয়েই সূচনা হয়েছিল কলকাতামুখী যাতায়াতের। পরে যুক্ত হয় শিয়ালদা, হাওড়া, নবদ্বীপের ট্রেন। শিলিগুড়ি যেতে এখনো একটিমাত্র ট্রেন নির্ভরযোগ্য ভরসা। সম্প্রতি ফারাক্কা এক্সপ্রেস টেনে আনা হলেও যাত্রী–চাহিদা মেটাতে তা নেহাতই অপ্রতুল। এই প্রেক্ষিতেই অমৃত ভারত প্রকল্পে স্টেশনকে আধুনিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল রেল। কিন্তু কাজের গতি এমন যে, জেলা জুড়ে ক্ষোভ চেপে রাখা দুষ্কর হয়ে উঠছে।

স্টেশন চত্বরে দাঁড়িয়ে ডিআরএম বলেন, “একাধিক কাজ চলছে, কিন্তু শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে এভাবে ধীর গতিতে কাজ চললে যাত্রী সুবিধা দেওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। লোকবল একেবারেই অপর্যাপ্ত। শৌচালয় নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আমরাও দেখছি। প্রয়োজনে ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি কথা হবে।”

অন্যদিকে, একলাখী বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তাদের দাবি, “ঢিলেঢালা মনোভাবের পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধিই দায়ী। যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।”

সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভও তীব্র। কারও কথায়, “এক বছরেরও বেশি সময় হলো কাজ শুরু হয়েছে। অথচ এখনও প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়নি।” আবার অন্যদের অভিযোগ, “দু’বছর ধরে সিক লাইন ও পিট লাইনের কাজ চলছে, শেষ হওয়ার নাম নেই। শৌচালয়ে ঢুকতে নাক চেপে ধরতে হয়।”

প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজের হাল এতটাই শোচনীয় যে প্রশ্ন তুলছে জেলার মানুষ—অর্থ কোথায় যাচ্ছে? রেল দফতরের সর্বোচ্চ কর্তারা যেখানে ক্ষুব্ধ, সেখানে যাত্রীদের হতাশা কতটা গভীর, তা বলাই বাহুল্য।

ডিআরএম–এর প্রথম সফরেই বালুরঘাট স্টেশনের এহেন চিত্র প্রকাশ্যে আসায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় রেল দফতর হুঁশ আসে কবে, আর কবে স্বস্তি ফিরে পায় রেল–নির্ভর দক্ষিণ দিনাজপুরবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here