তিওড় স্কুলে মিড-ডে মিল কাণ্ড! রহস্যময় অভিযোগে তোলপাড়,

0
96

তিওড় স্কুলে মিড-ডে মিল কাণ্ড! রহস্যময় অভিযোগে তোলপাড়, দুর্নীতির গন্ধে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

বালুরঘাট, ২৬ আগষ্ট —– মিড-ডে মিল নিয়ে রহস্যময় অভিযোগ কে ঘিরে হুলুস্থুল কান্ড হিলির তিওড় কৃষ্ণাষ্টমী স্কুলে। মঙ্গলবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শঙ্কর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ জেলাশাসকের কাছে জমা পড়তেই নড়েচড়ে বসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। জেলা সামাজিক নিরিক্ষা দপ্তরের দুই সদস্যর এক প্রতিনিধি দল স্কুলে পৌঁছাতেই হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়, সামনে আসে একাধিক অনিয়মের ছবি। দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিওড় কৃষ্ণাষ্টমী স্কুল। প্রতিদিন চারশোরও বেশি পড়ুয়ার ভরসার জায়গা এই মিড-ডে মিল। আর সেই খাবার নিয়েই এদিন গোটা হিলি জুড়ে বয়ে গেল তোলপাড়ের ঝড়।

সূত্রের খবর, জেলা শাসকের দপ্তরে জমা পড়েছে এক লিখিত অভিযোগ। যে অভিযোগে সরাসরি আঙুল স্কুলের প্রধান শিক্ষক শঙ্কর ভট্টাচার্যের দিকে— মিড-ডে মিলের অর্থ বণ্টনে দুর্নীতি, খাবারের মানে গাফিলতি, আর পরিবেশনে লাগামহীন অনিয়ম। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। তড়িঘড়ি স্কুলে পৌঁছে যায় জেলা সামাজিক নিরীক্ষা দপ্তরের দুই আধিকারিকের প্রতিনিধি দল। হাজিরা খাতা, অডিট রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখা হয়। এরপর রান্নাঘরে গিয়ে চোখে পড়ে চাঞ্চল্যকর ছবি— খাওয়ার জায়গার চরম সংকট, স্বাস্থ্যবিধি মানা নেই, আর কুকুর-ছাগলের সঙ্গেই একই জায়গায় বসে খাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা! যা দেখে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন আধিকারিকেরা।

কিন্তু আসল নাটক বাঁধে অন্য জায়গায়। যে অভিযোগের ভিত্তিতে এত কিছু, সেই অভিযোগ নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগকারী গৌতম লাহার ছেলে বান্টি লাহা সরব হয়ে জানান— ‘‘আমার বাবা ব্যবসায়ী মানুষ, তিনি কখনও অভিযোগ করেননি। অভিযোগপত্রে যে সই দেওয়া আছে, তা বাবার নয়। আমাদের নাম ভাঙিয়ে কেউ মিথ্যে অভিযোগ করেছে।’’ ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

যে অভিযোগের জবাবে প্রধান শিক্ষক শঙ্কর ভট্টাচার্যের সাফাই, ‘‘মিড-ডে মিল নিয়ে যা জানতে চাওয়া হয়েছে সব দেখানো হয়েছে। বসে খাওয়ার জায়গা কম, কিছু খুঁত আছে— সেই বিষয়েই তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’’

অন্যদিকে, স্কুলের রাঁধুনি লতিকা বর্মনের দাবি, ‘‘আমরা প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে রান্না করি। প্রতিদিন চারশো থেকে সাড়ে চারশো ছাত্রছাত্রী মিড-ডে মিল খায়। একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়ারাও এখানেই খায়।’’

জেলা সামাজিক নিরীক্ষা দপ্তরের আধিকারিক অপুর্ব কুন্ডু জানিয়েছেন, ‘‘স্কুলে গিয়ে একাধিক অনিয়ম চোখে পড়েছে। সব কিছুই নথিভুক্ত করে জেলা শাসকের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’’

এখন গোটা তিওড় ও হিলি এক প্রশ্নে গুঞ্জরিত— মিড-ডে মিল দুর্নীতির পর্দাফাঁস সত্যিই হচ্ছে, নাকি সাজানো অভিযোগের আড়ালে চলছে আরও গভীর চক্রান্ত? রহস্যের জট খুলবে কার হাতে— সেই উত্তরই এখন অপেক্ষায় গোটা জেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here