কলঙ্কিত খেলার মাঠ! ক্লাবে ঢুকে ফুটবল খেলোয়াড় কে মারধর করে বিতর্কে জড়ালেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি, তোলপাড় বালুরঘাট
বালুরঘাট, ৩০ জুলাই —– খেলার মাঠেও মারপিট! ক্লাবের ভিতরে ঢুকে এক ফুটবল খেলোয়াড় কে মারধর করার অভিযোগ খোদ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি বিপ্লব দেব ওরফে ভুতুর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো হুলুস্থুল কান্ড বালুরঘাটে। লিখিত অভিযোগ জানিয়ে বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হয়েছেন আহত ফুটবল খেলোয়াড় বিশ্বজিৎ ঘোষ। এদিকে এই ঘটনাকে লজ্জাজনক ব্যাখ্যা করে বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে প্রেস বিবৃতি জারি করেছে বালুরঘাট টাউন ক্লাব কতৃপক্ষ।
সোমবার বালুরঘাট ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন মাঠে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত সুপার ডিভিশন ফুটবল লিগ ২০২৫ এ মুখোমুখি হয় বালুরঘাট টাউন ক্লাব বনাম নেতাজী স্পোর্টিং ক্লাব। যেখানেই বালুরঘাট টাউন ক্লাবকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ক্লাবের অন্যতম ফুটবল খেলোয়াড় বিশ্বজিৎ ঘোষ। অভিযোগ, যেখানেই আচমকা তার উপর চড়াও হন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি বিপ্লব দেব ওরফে ভুতু। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার পর বিশ্বজিৎ ঘোষ নামে ওই ফুটবল খেলোয়াড় তার নিজের ক্লাব টাউন ক্লাবে ছুটে গেলে সেখানে গিয়েও বিশ্বজিৎ কে মারধর করে বিপ্লব দেব ওরফে ভুতু বলে অভিযোগ। ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চমকে যান ক্লাবের অনান্য সদস্যরা। যাদের হস্তক্ষেপে সেসময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পরবর্তীতে এই ঘটনা জানিয়ে বালুরঘাট থানায় বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত ওই ফুটবল খেলোয়াড় বিশ্বজিৎ ঘোষ। তার অভিযোগ, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ত্রিবার্ষিক সাধারণ সভায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বেশকিছু পদাধিকারীর বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। যে তালিকায় নাম ছিল বর্তমান জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি বিপ্লব দেব ওরফে ভুতুর নাম। কেন তার বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি, সেই অভিযোগেই তাকে মারধর করা হয়েছে। যদিও মারধরের অভিযোগ সম্পুর্ন অস্বীকার করেছেন বিপ্লব দেব ওরফে ভুতু। তার দাবি, সংস্থার নিয়মানুযায়ী কেউ ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতে গেলে তাকে কোনভাবেই সদস্য রাখা যায় না। যে কারনেই বিশ্বজিৎ ঘোষের সদস্যপদ খারিজ করা হয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে। একজন কার্যকরী সভাপতি হিসেবে সংস্থার দায়ীত্ব পালন করায় তার নামে এমন মিথ্যে অভিযোগ এনেছে ওই ব্যক্তি। আদালতে যাবার কারনে এমন ঘতনার কথাও অস্বীকার করেছেন বিপ্লব বাবু।
যদিও বিশ্বজিৎ ঘোষের দাবি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় তাকে মারধর করেছে কার্যকরী সভাপতি। ঘটনায় আঙুলে চোট পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। আদালতের ঘটনার পর ওইদিন প্রথম সামনা সামনি হয়েছিলেন কার্যকরী সভাপতি বিপ্লব দেবের। আর তারপরেই এমন হামলা করা হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দায় একজোট বালুরঘাট টাউন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ক্লাব সম্পাদক কৌশিক সরকার জানান, “যিনি জেলার ক্রীড়ার অভিভাবক, তিনিই যদি একজন খেলোয়াড়ের উপর এভাবে চড়াও হন, তাহলে এ সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এ ঘটনা লজ্জার, ভয়ংকর, এবং খেলাধুলোর শৃঙ্খলার উপর সরাসরি আঘাত।”
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—একজন কার্যকরী সভাপতি কি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন? মাঠে যখন ‘ফাউল’ হয়, রেফারি বাঁশি বাজান। কিন্তু যখন সেই রেফারি-ছায়ায় থাকা কেউই আচরণ হারান, তখন কে বাঁশি বাজাবে? কে বলবে, খেলা বন্ধ? জেলার ক্রীড়াঙ্গন আজ এই প্রশ্নেই গর্জে উঠেছে। মাঠের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের এই ভয়ানক চিত্র যেন এদিন বালুরঘাটের ক্রীড়া ইতিহাসে এক কলঙ্কিত পৃষ্ঠা লিখে দিয়ে গেল।