ত্রিশ বছরের স্মৃতি উস্কে আবেগের ছবি মমতার জনসভায়। কুমারগঞ্জে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে মহিলাদের ডি জোনে ঢোকাতে বাধ্য হলেন পুলিশ কর্মীরা
পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ এপ্রিল —— ৩০ বছরের স্মৃতি উস্কে আবেগের ছবি মমতার জনসভায়। কুমারগঞ্জের প্রকাশ্য সভা মঞ্চে সত্তরোর্দ্ধ বৃদ্ধাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আবেগ তাড়িত মমতা। উপচে পড়া ভিড়ে সাধারনের হাততালি কুড়োলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রবিবার দুপুরে কুমারগঞ্জের প্রকাশ্য সভা মঞ্চে মমতার এমন আবেগতাড়িত ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন দলের নেতা কর্মীরা। আবেগে আপ্লুত হলেন মৃত স্কুল ছাত্র পার্থ সিংহ রায়ের পরিবারের লোকেরাও। মূলতঃ এদিন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্রের সমর্থনে একটি প্রকাশ্য সভা করতে কুমারগঞ্জে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা দুটো নাগাদ হেলিকপ্টারে করে সভামঞ্চে হাজির হতেই উৎসাহী সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ে এলাকায়। মহিলাদের ভিড় সামলাতে নাজেহাল পুলিশ কর্মীরা শেষ পর্যন্ত ডি জোনেও কিছু মহিলাদের বসাতে বাধ্য হন। আর যা দেখেই কিছুটা আবেগতাড়িত হন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। এরপরেই সভামঞ্চে উঠে ৩০ বছর আগে ঘটে যাওয়া পার্থ সিংহ রায় নামে এক স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার স্মৃতি চারণা করেন তিনি। যে সভামঞ্চেই এদিন হাজির ছিলেন ওই মৃত ছাত্রের মা অন্নপূর্ণা সিংহ রায়। যাকেই বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগ তাড়িত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এরপরেই তাদের সাথে কথা বলে দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তার সেই পুরনো লড়াকু মেজাজের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কুমারগঞ্জ থেকে যেন একটি ভোটও বিজেপি না পায় তার কড়া বার্তাও এদিন নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসাথে সিপিএম কংগ্রেসকে একটি ভোটও না দেবার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। যার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এদিন মমতা বলেন, কোচবিহার জলপাইগুড়িতে সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতারা বিজেপিকে ভোট দেবার কথা বলছেন। তাই এই কেন্দ্রে যেন তারা কোনভাবেই ভোট না পায় সেদিকটাও তুলে ধরে নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছেন।
অন্নপূর্ণা সিংহ রায় ও সারদা সিংহ রায়রা বলেন, তাদের পরিবারের একজন ছেলে চলে যাওয়ার বিষয় মমতা শুধু এসভাতেই নয় সবখানেই তুলে ধরেন। তাদের বাড়িতে এপর্যন্ত তিনবার গিয়েছেন তিনি। আজ যেভাবে সভামঞ্চে আবেগতাড়িত হয়েছিলেন তাতে তারা সকলেই কৃতজ্ঞ তার প্রতি। তার এই ধরনের মনোভাবের জন্যই আজ তিনি মমতা হয়েছেন।