কুমারগঞ্জে পঞ্চায়েত অফিসের পাশেই দেদার পুকুর ভরাট! হেলদোল নেই প্রধানের, কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি জেলাশাসকের
পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ ফেব্রুয়ারী ——– প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পঞ্চায়েতের নাকের ডগাতেই দেদার পুকুর ভরাট দক্ষিণ দিনাজপুরে। হেলদোল নেই প্রধানের। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর এলাকায়। ঘটনা নিয়ে স্তম্ভিত পরিবেশপ্রেমীরা জানালেন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের। কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস জেলাশাসকের।
জানা গেছে, সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার বসাক ও রবীন্দ্রনাথ বসাক। যাদের নামেই প্রায় ২৫ শতকের একটি পুকুর রয়েছে। যে পুকুরটি পঞ্চায়েত অফিস থেকে কার্যত ঢিল ছোড়া দূরত্বেই অবস্থিত। অভিযোগ, সেই পুকুরটি দিনরাত এক করে ভরাট করে চলেছেন পুকুর মালিক উত্তম কুমার বসাক ও রবীন্দ্রনাথ বসাকরা। আর যা দেখেও কার্যত নিশ্চুপ পঞ্চায়েত প্রধান মমতাজ বিবি। খোদ প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে আস্ত ওই পুকুরটি ভরাট করা চলছে যা নিয়েই কার্যত অবাক হয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাদের দাবি প্রকৃতির কিডনি হিসাবে পরিচিত এই জলাভূমি। কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও জলাভূমি কখনই ভরাট করা যায় না। তাহলে পঞ্চায়েতের নাকের ডগায় কার অনুমতি নিয়ে চলছে এই অবৈধ পুকুর ভরাটের কাজ ? যা নিয়ে স্তম্ভিত পরিবেশপ্রেমীরাও। ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের জোড়ালো হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন তারা। যদিও এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান দাবি করছেন, পুকুরটি সরকারি নয় তাই তারা একাজে বাধা দেননি। খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের এমন অবাক করা বক্তব্যে হতবাক হয়েছেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণাও। তার দাবি জলাশয় কোনভাবেই ভরাট করা যায়না। এক্ষেত্রে ওই জলাভূমি ভরাটে কোন নিয়ম না মানা হলে পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুকুর মালিক উত্তম কুমার বসাক বলেন, এলাকার নোংরা আবর্জনা এসে পড়ছিল বলেই তা ভরাট করছেন। ঘটনা নিয়ে বি এল আর ও অফিসের এক কর্মীর পরামর্শ নিয়েছিলেন মাত্র। কাগজ কলমে পুকুরটি পঁচিশ শতক রয়েছে। যার অর্ধেক অংশে মাটি ফেলেছেন তারা।
পরিবেশপ্রেমী তুহিন শুভ্র মন্ডল বলেন, জলা জমি কোনভাবেই ভরাট করা যায় না। কুমারগঞ্জের সাফানগরের ঘটনায় তারা যথেষ্টই আতঙ্কিত। পঞ্চায়েত অফিসের পাশে কিভাবে এমন পুকুর ভরাট হচ্ছে তা নিয়ে যথেষ্টই স্তম্ভিত তারা। অবিলম্বে ওই পুকুর ভরাট বন্ধ করতে পুলিশ এবং প্রশাসন কড়া হাতে পদক্ষেপ গ্রহন করুক সেই আবেদন জানান তারা।
সাফানগর পঞ্চায়েতের প্রধান মমতাজ বিবি বলেন, তারা দেখেছেন পুকুরটি ভরাট হচ্ছে। যেহেতু পুকুরটি পঞ্চায়েতের নয় তাই তারা সে কাজে বাধা প্রদান করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
দক্ষিন দিনাজপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, বি এল আরও কে জানানো হচ্ছে ঘটনার তদন্ত করে একটি রিপোর্ট পেশ করার জন্য। সে ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম ধরা পড়লে পুকুর মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।