হোস্টেলের অবহেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তেজনা গঙ্গারামপুরের শিববাড়িতে, আটক ১ হোস্টেলের এক কর্মী, তদন্তে পুলিশ

0
109

হোস্টেলের অবহেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তেজনা গঙ্গারামপুরের শিববাড়িতে, আটক ১ হোস্টেলের এক কর্মী, তদন্তে পুলিশ
শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট
২৯ নভেম্বর, দক্ষিণ দিনাজপুর।দুই দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগতে ভুগতে হোস্টেলের বেডেই কাতরাচ্ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী অনুশ্রী হেমরম (৮)। অভিযোগ, উঠেছে গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি বা অভিভাবকদের খবরও দেয়নি। অবশেষে শুক্রবার ভোরে সংকটজনক অবস্থায় পরিবারের লোকজনকে ডেকে তাদের বাবা-মা এসে তাকে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৮নম্বর ওয়ার্ডের শিববাড়ি রাজীবপুর খ্রীষ্ট রাজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হোস্টেলে ঘটেছে। খ্রিস্টান মিশনারি এই হোস্টেলটিতে টাকার বিনিময়ে জেলার প্রায় ২০০জনকে রেখে পড়াশোনা করানো হয়ে থাকে।যা আদিবাসী সম্প্রদায় ঘরের ছাত্রীরা সেখানে পড়াশোনা করে থাকে।ছাত্রী অনুশ্রী হেমরম গঙ্গারামপুর থানার পীরপাল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা সুজন হেমরম পেশায় রাজমিস্ত্রি। দুই বছর ধরে অনুশ্রী ওই স্কুল হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিল।এদিন এমন ঘটনা ঘটার পরেই বাকি সমস্ত অভিভাবকেরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।চলে হোস্টেলে ব্যাপক পরিমাণে বিক্ষোভ।
মৃত ছাত্রীর পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, বুধবার থেকেই অনুশ্রী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।কিন্তু হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীটির শারীরিক অবস্থা উপেক্ষা করে তাকে বেডেই ফেলে রাখে।সময়মতো চিকিৎসা করলে অনুশ্রীর মৃত্যু এড়ানো যেত এমনই দাবি পরিবারের।
শুক্রবার দুপুরে ছাত্রীর মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা।তাঁরা হোস্টেল ও বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন“কেন সময় মত তার চিকিৎসা করানো হল না?”
“কেন সময় থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের খবর দেওয়া হল না?”বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।রেফফোর্সও মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে হোস্টেলের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
অনুশ্রীর পাশাপাশি হোস্টেলে আরও তিন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে সূত্রে খবর। কিন্তু তাদেরও হোস্টেলেই ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভ চলাকালীন বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তৎক্ষণাত তিনজনকেই উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর মহকুমার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে।
হোস্টেলের এই অবহেলা নিয়ে মৃত ছাত্রীর বাবা সুজন হেমরম ও এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন,”এমন ঘটনা মেনে নিতে পারবো না, যারা মেয়ের অকাল মৃত্যুর জন্য দোষী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেক সেই দাবি জানাই।” এমন ঘটনায় সেখানে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করা এক বাসিন্দা আন্তনি টুডু অভিযোগ করে বলেন,”মেয়েটি অসুস্থ হয়েছে সেটা হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ফোন করে বলতে পারত।আমরা নিজেরাই সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মেয়েকে চিকিৎসকে দেখালে এমন ঘটনা ঘটত না।যারা দোষী তাদের প্রশাসন কঠোর সাজা দেবে সেই দাবি জানাই।” মামনি হাসদা নামে হোস্টেলের দায়িত্ব থাকা কর্মী জানিয়েছেন,”সঠিক নিয়ম করে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। হোস্টেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঠিক নয়।”
হোস্টেলের ফাদারকে সাংবাদিকেরা একাধিকবার প্রশ্ন করলেও বিপদ বুঝে তিনি এবিষয়ে কোন কিছু বলতে চাননি।” গঙ্গারামপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্র জানিয়েছেন,” পুরো বিষয়টির উপর নজর রয়েছে প্রশাসন বিষয়টি দেখছে।” এমন ঘটনায় খবর লেখা পর্যন্ত হোস্টেল চত্বরে বিক্ষোভ চলছে মতামত রয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনীও। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন এই ঘটনা কিভাবে মেটা সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here