হরিপুর হাইমাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের হাতে হেনস্থা হতেই দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন মাদ্রাসারই সহশিক্ষক
শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ২৭ অগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুর।স্কুলে মিটিং চলাকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ বাকি বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সহ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ।ঘটনা নিয়ে সহশিক্ষক থানার পাশাপাশি শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার হরিপুর হাইমাদ্রাসা স্কুলে। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে অস্বীকার করেছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পরিচলন সমিতি। বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জেলা অধিকারিক। বংশীহারী ব্লকের হরিপুর হাইমাদ্রাসা স্কুলের সহশিক্ষক আব্দুস সাত্তার আহমেদ অভিযোগ, স্কুলের পঠন-পাটন পরীক্ষার সংক্রান্ত সহ নানা বিষয়ে গত ২৫ তারিখে একটি মিটিং এর আয়োজন করেন হরিপুর হাইমাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন স্কুল পরিচালন সমিতির একাধিক সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে হেনস্থার পাশাপাশি গলার নলি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।পুরো ঘটনা জানিয়ে গত ২৬ আগস্ট রাতে তিনি বংশীহারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আত্মরক্ষার স্বার্থে।তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং পরিচালন সমিতির সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রতিবাদ করেন এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকি এটা একটি ক্লাব ঘর।ওই সহ শিক্ষকের আরো অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন স্কুল পরিচালন সমিতির সহযোগিতায় দুজন হাতুড়ে শিক্ষক নিয়োগ করেছেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সাবেদ আলী ও সম্পাদক খাদেমুল ইসলামের সই জাল করে বলে তার দাবি।ওই সহ শিক্ষকের দাবি, পুরো ঘটনা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোতার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও প্রাক্তন সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছেন বলে দাবি তার। সহ শিক্ষকের আরো অভিযোগ, হরিপুর হাইমাদ্রাসার হোস্টেলে ১০/১৫ জনের মত ছাত্রছাত্রী থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ৫০জনের টাকা তুলেনেন স্কুলেরই প্যারা টিচার আনিসুর রহমানকে দিয়ে।এছাড়াও মিডডে মিলে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রচুর পরিমাণে টাকা দুর্নীতি করছেন বলেও সহশিক্ষক তার লিখিত অভিযোগে দাবি করেন। সহশিক্ষক আব্দুস সাত্তার আহমেদ অভিযোগ করে বলেন,”নিজের জীবনের রক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে থানা সহ শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।দোষীদের সাজা হোক সেই দাবি জানাই। বুধবার পুলিশ কোন বিষয়টি তদন্ত করতে স্কুলে আসে বলে তিনি জানান।”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সবই মিথ্যা। মাদ্রাসাকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে।পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য প্রকাশ পাবে।” মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন,”সহ শিক্ষক সব মিথ্যে কথা বলছে, পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঙ্গারামপুরের মহকুমা শাসক অভিজিত শুক্লা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক দেবাশীষ সমাজদার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বারবার নানা অভিযোগে নাম জড়ানোয় হরিপুর হাইমাদ্রাসাকে ঘিরে এখন সরগরম পুরো বংশীহারী ব্লকজুড়ে।