বালুরঘাট, ৭ জানুয়ারী —- বালুরঘাটে এসে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে একের পর এক কটাক্ষে বিদ্ধ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ তকমা, কখনও আবার ফ্যাশন শো-র্যাম্পে হাঁটার প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি আক্রমণ—দক্ষিণ দিনাজপুরে তাঁর সফর কার্যত রণংদেহী রাজনৈতিক বার্তাই বহন করল।
বুধবার দুপুরে হেলিকপ্টারে বালুরঘাট বিমানবন্দরে নামেন অভিষেক। প্রথমেই কুমারগঞ্জের এসআইআর আতঙ্কে মৃত ওছমান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর সোজা পৌঁছন পতিরামের লক্ষ্মীপুর গ্রামে—বাংলা বলার ‘অপরাধে’ মহারাষ্ট্রের জেলে সাত মাস বন্দি থাকা পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ির বাসিন্দা আর এক পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম বর্মন ও তাঁর পরিবারও। দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন অভিষেক।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এলাকার সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। অভিষেকের অভিযোগ, “জনগণের ভোটে সাংসদ হওয়ার ১১ বছর পরেও বালুরঘাটের উন্নয়নে কোনও দৃশ্যমান কাজ করেননি সুকান্তবাবু।” রেলের কাজ নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “একটা করে স্টপেজ বানাচ্ছেন, আর চারটে করে চিঠি পাঠাচ্ছেন। রাধিকাপুর-আনন্দবিহার ট্রেন যেখানে আগে সাত দিন চলত, এখন চলে মাত্র এক দিন—এই নাকি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রেল উন্নয়ন!”
কুমারগঞ্জে ওছমান মোল্লার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “বিজেপি সরকার মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে আত্মঘাতী হতে বাধ্য করা হচ্ছে।” পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে অভিষেকের জেলা সফর নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে সুকান্ত মজুমদারের পোস্টেরও পাল্টা জবাব দেন তিনি। সুকান্ত দাবি করেছিলেন, গৌতম বর্মন বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন না। অভিষেকের পাল্টা প্রশ্ন, “বুথ সভাপতি না হলেও তো বিজেপির কর্মী ছিলেন। তার জন্য আপনি কী করেছেন?”এখানেই থামেননি তিনি। গৌতম বর্মনের দাবি—২০১৯ সালে তিনি বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন—এই তথ্য তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “প্রাক্তন হলে দায়িত্ব নেই? বালুরঘাট লোকসভার ১৩৪৩টি বুথ সভাপতির বাইরেও কি কোনও দায়িত্ব নেই সাংসদের?” একইসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, “এই অহংকারের কারণেই আপনিও একদিন প্রাক্তন হবেন।” সাত মাস জেল খেটে শুকনো রুটি খাওয়া শ্রমিকদের পাশে না দাঁড়িয়ে ফ্যাশন শোতে হাঁটার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—“এই এলাকার মানুষ আপনাকে সাংসদ বানিয়েছে র্যাম্পে হাঁটার জন্য?”
অন্যদিকে, অভিষেকের আগমনে লক্ষ্মীপুর গ্রামে কার্যত উৎসবের আবহ। পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম বর্মন জানান, ভিনরাজ্যে আর যাতে কাজে যেতে না হয়, তার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক।
শ্রমিকদের স্ত্রী কাঞ্চনা বর্মন ও লিপি সরকার বলেন, “এই দুর্দশায় তৃণমূল ছাড়া কেউ পাশে দাঁড়ায়নি।” আবেগে আপ্লুত হয়ে তাঁরা অভিষেককে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন।
প্রতিবেশীদের কথায়, পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে এভাবে কোনও সর্বভারতীয় নেতা গ্রামে এসে পৌঁছন—এ দৃশ্য সত্যিই বিরল।























