হেসে-খেলে ১২ দিনেই সম্পূর্ণ এস আই আর! সেরা বিএলওর তালিকায় হিলির প্রাক্তন সেনা, নয়ন লাহার কাজে স্তম্ভিত নির্বাচন কমিশন
বালুরঘাট, ২৬ নভেম্বর —- এস আই আরের কাজ নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অভিযোগে উত্তাল—তখন হিলির বিনশিরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী নয়ন কুমার লাহা নীরবে লিখে ফেললেন এক অন্য ইতিহাস। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া এক মাসের সময়সীমাকে যেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মাত্র ১২ দিনেই ৬১৪ জন ভোটারের সব তথ্যসহ সম্পূর্ণ এস আই আর রিপোর্ট জমা দিলেন জেলা প্রশাসনের হাতে। যদিও নয়নের দাবি—প্রকৃত কাজ শেষ ১০ দিনেই।
যে কাজ নিয়ে বহু বিএলও সোশ্যাল মিডিয়ায় আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন, দায়িত্বের ভারে বিধ্বস্ত হচ্ছেন, সেখানে নয়নবাবু যেন অক্লান্ত শৃঙ্খলার পাঠ পড়াচ্ছেন সকলকে। কারণ তার ভিতেই রয়ে গেছে সৈনিকজীবনের ১৬ বছরের কঠোর নিয়ম নিষ্ঠা। ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে ২০১১-তে যখন তিওড় সাহাপুর প্রণবানন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার জীবন শুরু করেন, তখনও সেই আদর্শ থেকে এক চুল সরে যাননি তিনি।
১৩৭ নম্বর অংশের শ্রীকৃষ্ণ পল্লী পাঠাগার বুথের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নয়নের উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার—আতঙ্ককে দূরে রেখে নিখুঁত কাজ। ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, ভেরিফিকেশন—সবটাই সম্পন্ন হয়েছে অবিশ্বাস্য গতিতে, কিন্তু একফোঁটা ত্রুটি ছাড়াই।
ফলাফল? দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের প্রশংসা তো পেয়েছেনই, তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সেরা বিএলও’র তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই প্রাক্তন সেনার ছবি। জেলার গণ্ডি পেরিয়ে এখন জল্পনা—নয়নবাবুর নিষ্ঠা ও দক্ষতা তাকে কি ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘সেরা’ সম্মানও এনে দেবে?
হিলির মানুষের দাবি একটাই—
“নয়ন লাহা দেখিয়ে দিলেন, দায়িত্ব যখন গ্রহণ করতে হয়, তখন সেটি ভয়ের নয়—গর্বের।”























