রাতের অন্ধকারে ‘সবুজ লুঠ’! হিলিতে খাড়ির পাড় থেকে উধাও সরকারী লক্ষাধিক টাকার গাছ, প্রশ্ন চিহ্নে প্রশাসনের ভূমিকা

0
20

বালুরঘাট, ১৭ ফেব্রুয়ারী —– সবুজায়নের স্বপ্ন দেখিয়ে লাগানো সরকারি গাছই এখন দুষ্কৃতীদের নিশানায়। হিলি ব্লকের তিওড় এলাকায় রাতের অন্ধকারকে সঙ্গী করে লক্ষ লক্ষ টাকার মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনের অজানা থাকার দাবি ঘিরে উঠেছে উদাসীনতার অভিযোগ, আর যাকে ঘিরে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ থেকে নেমে আসা ঘাঘড়া নদী এই অঞ্চলে এসে খাড়িতে রূপ নিয়ে বিনশিরা ও ধলপাড়া—দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে আলাদা করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে কয়েক বছর আগে বনদপ্তর ও ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে খাড়ির দুই পাড়ে লাগানো হয়েছিল শতাধিক সেগুন, মেহগিনি ও আকাশমনি গাছ। সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা সেই গাছই এখন রাতের অন্ধকারে একের পর এক কেটে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, বহুদিন ধরেই এই ‘সবুজ চুরি’ চললেও প্রশাসনের নজরদারি কার্যত অনুপস্থিত।
তিওড়ের বাসিন্দা সুরজ দাস বলেন, “গাছ মানেই জীবন ও পরিবেশের নিরাপত্তা। অথচ সেই গাছ নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশাসন অন্ধকারে থাকলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ঘটনায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে হিলির বিডিও চিরঞ্জিত সরকার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না, তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনদপ্তরের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মাও জানিয়েছেন, ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সবুজায়নের স্বপ্ন দেখানো প্রকল্প যদি রাতের অন্ধকারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তবে সরকারি উদ্যোগের নিরাপত্তা ও নজরদারি কতটা কার্যকর—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন তুলছে তিওড়ের মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here