রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রীর হাত দিয়েই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মা ক্যান্টিনের উদ্বোধন হলো। পাঁচ টাকায় পেলেন বহু রোগীর আত্মীয়-স্বজনেরা দুপুরে ডিম ভাত সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। 

0
661

শীতল চক্রবর্তী,গঙ্গারামপুর,৩০ মে দক্ষিণ দিনাজপুর :-রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রীর হাত দিয়েই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মা ক্যান্টিনের উদ্বোধন হলো। পাঁচ টাকায় পেলেন বহু রোগীর আত্মীয়-স্বজনেরা দুপুরে ডিম ভাত সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র।  এদিন দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুর গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে ফিতে কেটে  মা ক্যান্টিনের উদ্বোধন করন মন্ত্রী। সেখানে জেলাশাসক, মুখ্যস্বাস্থ্য অধিকারী, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সহ একাধিক ওয়ার্ড এর কাউন্সিলরের উপস্থিতি ছিলেন। উপস্থিত সকলেই এদিন মা ক্যান্টিনের পাঁচ টাকার খাবার বিলি করেন রোগীর আত্মীয়দের। সরকারি এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

  ২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায়  গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বর গড়ে তোলা হয় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। চিকিৎসকা পরিষেবার অন্যতম গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতাল শুধুমাত্র গঙ্গারামপুরের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষই নয়।মহকুমা চারটি ব্লক, দুটি পৌরসভা এলাকার পাশাপাশি বালুরঘাট মহকুমার কুমারগঞ্জ ও তপন এলাকার বাসিন্দারাও তাদের প্রয়োজনে গঙ্গারামপুর মহকুমার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন।এমনকী মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলার বহু মানুষজনেরাও   হরিরামপুর,কুশমন্ডি,বংশীহারী, তপন,কুমারগঞ্জ,বালুরঘাট ব্লকের মানুষজন  কিন্তু কম খরচে খাবার খেতে  দুর দুরান্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়দের একটু সমস্যায় পড়তে হয় এতদিন ধরে। বেডে রোগী রেখে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে খাবার খেতে হত এতদিন ধরে। খুব সহজেই যাতে রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতাল চত্বরে দুপুরের  খাবার খেতে পারেন। সেনিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করে জেলা প্রশাসন,রোগী কল্যাণ সমিতি ও গঙ্গারামপুর কর্তৃপক্ষ। গত মার্চ মাসে পুরসভা ও রোগী কল্যাণ সমিতিকে নিয়ে বৈঠক করেন  জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণা। সেই  বৈঠক গঙ্গারামপুর হাসপাতালে চত্বরে মা ক্যান্টিন খোলার  উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর জেলা শাসককের মাধ্যমে হাসপাতালে মা ক্যান্টিন খোলার আবেদন পাঠানো হয় নবান্নে। চলতি মাসের ৪ তারিখে রাজ্য নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে  গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মা ক্যান্টিন খোলার অনুমতি মেলে।ক্যান্টিন চালুর জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে মা ক্যান্টিন খোলার সবুজ সংকেত মিলতে জোড় কদমে শুরু হয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার। ফিতে কেটে রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র , জেলাশাসক বি জিন কৃষ্ণা জেলা মুখ্য সাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে ফিতে কেটে  মা ক্যান্টিনের উদ্বোধন করেন।সেখানে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে সুপার বাবুসোনা সাহা,সহকারী সুপার নয়ন সরকার,পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার পঙ্কজ কুমার পুরোকাইত ,হেড ক্লার্ক শ্যামল দাস,গঙ্গারামপুর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার পঙ্কজ কুমার পুরোকাইত, সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলেরা।  

                                              রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র জানিয়েছেন, সরকার সব সময় চাইছে মানুষজনকে পরিষেবা দিতে। তাই পৌরসভার মাধ্যমে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মা কেন্টিন তৈরি হওয়ার ফলে অনেকেই উপকার হবে ।     

   জেলা বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, পৌরসভার তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সেটি অনুমোদন দিয়েছে। পুরসভার মাধ্যমে প্রকল্প চলবে। রোগীর আত্মীয়রা কম পয়সায় ভালো খাবার পাবেন।                           

  গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র জানিয়েছেন, পৌরসভার মাধ্যমে মানুষজনকে বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প ইতিমধ্যেই করে দেওয়া হয়েছে। রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের কথা ভেবেই এমন প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়ে চালু করা হলো। রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা এখন ৫ টাকায় বিভিন্ন ধরনের খাবার পেট ভরে পাবেন হাসপাতালে মা ক্যান্টিন থেকে।                

                             মহকুমা হাসপাতালে এমন প্রকল্প চালু হওয়ায় সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।