মেসেজে এল আবাসের টাকা, চিঠিতেও মিলল বরাদ্দ—তবু ব্যাঙ্কে শূন্য! পতিরামের হাড়পুরে ‘ভুতুড়ে’ আবাস রহস্য

0
45

মেসেজে এল আবাসের টাকা, চিঠিতেও মিলল বরাদ্দ—তবু ব্যাঙ্কে শূন্য! পতিরামের হাড়পুরে ‘ভুতুড়ে’ আবাস রহস্য

বালুরঘাট, ৬ ফেব্রুয়ারী —- বাংলা আবাস যোজনার ঘর নিয়ে রীতিমতো ভুতুড়ে কাণ্ড বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের হাড়পুর এলাকায়। ঘর বরাদ্দের কনফার্মেশন চিঠি হাতে পেয়েছেন উপভোক্তা, মোবাইলে এসেছে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকার মেসেজও। অথচ ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখা যাচ্ছে—এক টাকাও জমা পড়েনি। এই আজব ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
জানা গেছে ওই উপভোক্তার নাম উত্তম সরকার। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। দু’বছর আগে কাজ সেরে গ্রামে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে অন্যের জমিতে দিনমজুরির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। টিনের চালের ছোট ঘরেই বসবাস। ২০২৪ সালে তাই বাংলা আবাস যোজনায় আবেদন করেন উত্তম।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে একটি চিঠি আসে তাঁর বাড়িতে। সেখানে জানানো হয়—তাঁর নামে আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছে। একইসঙ্গে মোবাইলে আসে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর মেসেজ। কিন্তু ব্যাঙ্কে গিয়ে হতবাক উত্তম—অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই!
বিষয়টি নিয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ জানান পঞ্চায়েত প্রধান ও বিডিও-র কাছে। উত্তমের দাবি, রাজনৈতিক অভিসন্ধিতেই তাঁর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ, ২০২৪ সাল থেকে তিনি হাড়পুর বুথের বিজেপির সম্পাদক পদে রয়েছেন।
গ্রামবাসীরাও ঘটনায় বিস্মিত। প্রতিবেশী মনোহর মণ্ডলের কথায়, “ঘর না পেলে মেসেজ এল কীভাবে? পঞ্চায়েতের চিঠিই বা এল কেন? উত্তম একদম যোগ্য মানুষ সরকারি ঘর পাওয়ার।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থ ঘোষ। তাঁর দাবি, “ওই নামে আরও একজন রয়েছে। ভুলবশত চিঠি ও মোবাইল নম্বর গুলিয়ে গেছে। রাজনৈতিক কোনও বিষয় নেই। আমাদের পঞ্চায়েতে বিজেপির বহু কর্মীই আবাসের ঘর পেয়েছেন।

তবু সরকারি মেসেজ, কনফার্মেশন চিঠি আর ব্যাঙ্কের শূন্য অ্যাকাউন্ট—এই তিনের গরমিল ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়। প্রশাসনের তদন্তেই এখন নজর হাড়পুরবাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here