ভোটের মুখে ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক বদলি! ডিপিএসসি ঘেরাও করে বিক্ষোভ বাম শিক্ষক সংগঠনের

0
33

বালুরঘাট, ১৬ মার্চ —– ভোটের আবহে জেলাজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ঘিরে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে নিয়ম-নীতিকে বিসর্জন দিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষক বদলির নির্দেশ জারি করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ (ডিপিএসসি)। সেই অভিযোগেই সোমবার দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলি।
সোমবার রঘুনাথপুর এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে জড়ো হন সারা বাংলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শতাধিক সদস্য। বদলির নির্দেশের প্রতিবাদে সরব হয়ে তারা দপ্তর ঘেরাও করেন এবং পরে জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত শুক্রবার কয়েকটি মেমো নম্বর জারি করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশের নোটশিটে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সম্মতির সই নেই। অথচ শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে এই অনুমোদন বাধ্যতামূলক বলেই দাবি সংগঠনগুলির। অভিযোগ আরও গুরুতর—ডিপিএসসির চেয়ারম্যান নাকি নিয়ম না মেনে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে এই বদলির নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষকদের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যা কিংবা শনিবার সকালে বদলির কপি হাতে পেয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একই সময়ে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরাও ই-মেইলে নির্দেশ পান। কিন্তু শনি ও রবিবার সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় সোমবার রিলিজ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে রবিবার নির্বাচন সূচি ঘোষণা হওয়ায় চালু হয়েছে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট। ফলে এই বদলি কার্যকর হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা শিক্ষকদের।
সারা বাংলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক দিব্যেন্দু সিদ্ধান্তের অভিযোগ, “রেজিস্টার্ড সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই ডিপিএসসি স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রবীণতার ভিত্তিতে বদলি হওয়া উচিত।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডিপিএসসির চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা। তাঁর দাবি, “যেসব স্কুলে ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শিক্ষক বেশি, সেখানকার ‘সারপ্লাস’ শিক্ষকদেরই তোলা হচ্ছে। নির্বাচন ঘোষণার আগেই নির্দেশ জারি হয়েছে। সবটাই নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।