বালুরঘাট, ১৮ মার্চ —-দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই অস্বস্তিতে শাসকদল। বিচারাধীন অবস্থায় থাকা বিধায়ক তোরাব হোসেন মন্ডলকে তৃণমূলের টিকিট দেওয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন। নমিনেশন জমার সময়ই জটিলতা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মুখে কুমারগঞ্জের প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। একইভাবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও এড়িয়ে যান সেই নাম। অথচ পরে প্রকাশিত তালিকায় স্পষ্টভাবেই উঠে আসে তোরাব হোসেন মন্ডলের নাম। এই ‘অদৃশ্য-প্রকাশ’ ঘিরেই জোর জল্পনা—বিচারাধীন থাকার কারণেই কি প্রথমে নাম গোপন রাখা হয়েছিল?
বিরোধীদের কটাক্ষে আগুনে ঘি পড়েছে। বামফ্রন্ট প্রার্থী মোফাজ্জ্বল হোসেন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “যার ভোট দেওয়ার অধিকারই অনিশ্চিত, তিনি ভোট চাইবেন কীভাবে? তাঁর দাবি, নমিনেশন জমা দিতে গেলে ভোটার তালিকার নথি বাধ্যতামূলক—সেই জায়গাতেই তৈরি হতে পারে আইনি জট।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গোপাল দেবও একই সুরে সতর্ক করেছেন, বিচারাধীন ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। নমিনেশনের আগে তালিকা না এলে বড় সমস্যায় পড়বেন তোরাববাবু, মন্তব্য তাঁর।
যদিও বিতর্ক এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তোরাব হোসেন মন্ডল জানিয়েছেন, প্রক্রিয়া চলছে, সময় এলে সব পরিষ্কার হবে।
ভোটের আগে কুমারগঞ্জে এই ঘটনাই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শেষ প্রশ্ন একটাই—আইনের জালে আটকে যাবে প্রার্থীপদ, নাকি সব বাধা পেরিয়ে ভোটের ময়দানে নামবেন তোরাব?























