শীতল চক্রবর্তী | বুনিয়াদপুর | ২৬ ফেব্রুয়ারি
সরকারি স্টেট বাসে যাত্রী সেজে পকেটমারি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই নেশাগ্রস্ত যুবক। তৃতীয় এক সঙ্গী কৌশলে পালিয়ে যায়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার রশিদপুর এলাকায়।
বুধবার সকালে বালুরঘাট থেকে রায়গঞ্জ ও মালদাগামী একাধিক স্টেট বাস চলাচল করছিল। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ বালুরঘাট–রায়গঞ্জগামী একটি স্টেট বাসে যাত্রী সেজে এক ব্যক্তির পকেট থেকে প্রায় ২,৫০০ টাকা চুরির চেষ্টা করে তিন যুবক। বিষয়টি টের পেতেই বাসের মধ্যেই ধরা পড়ে যায় পকেটমারেরা।
বাসের মধ্যেই উত্তেজিত যাত্রীদের হাতে গণধোলাই খায় তারা। পরে বাসটি রশিদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তিন জনই পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দুই যুবককে ধরে ফেলে বেঁধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও এক যুবক ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই যুবকের নাম রহিত সোহান (২৬) ও চন্দন প্রসাদ (১৯)। দু’জনেরই বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকায়। পালিয়ে যাওয়া যুবকের নাম ভীম প্রসাদ (২৭), বাড়ি হেমতাবাদ এলাকায়। পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশকে তারা জানিয়েছে, ড্রাগসের নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা পকেটমারির পথ বেছে নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেট বাস ও পাবলিক বাসে পুলিশের নজরদারি কম থাকায় দিনের পর দিন এ ধরনের চুরি, ছিনতাই বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত সরকার ও সবেদুর রহমান বলেন, “বালুরঘাট–রায়গঞ্জগামী বাসে প্রকাশ্যে পকেটমারি হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডে পালাতে গিয়েই ধরা পড়েছে ওরা। নিয়মিত পুলিশি নজরদারি থাকলে এমন ঘটনা কমত।”
অন্যদিকে, গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার বলেন, “দু’জনকে আটক করা হয়েছে, একজন পালিয়ে গিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। পালাতক অভিযুক্তকে ধরতে চেষ্টা চলছে।”
নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, একের পর এক এমন ঘটনার পরেও বাসে বা বাসস্ট্যান্ডে পর্যাপ্ত পুলিশি টহল চোখে পড়ে না। ফলে নেশাগ্রস্ত যুবকদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলেই মত সাধারণ মানুষের।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর বুনিয়াদপুরে স্টেট বাসে পকেটমারি, হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই নেশাগ্রস্ত যুবক, পালাল...























