বুনিয়াদপুরে লজের আড়ালে দেদার মধুচক্র! হাতেনাতে ধরা পড়ল ১২ জন

0
316

বুনিয়াদপুরে লজের আড়ালে দেদার মধুচক্র! হাতেনাতে ধরা পড়ল ১২ জন, গ্রেফতার লজের মালকিন

বালুরঘাট, ১৪ নভেম্বর —–দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে লুকিয়ে চলছিল রমরমা দেহব্যবসা। দিনের আলোয় প্রকাশ্যেই লজ ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কারবার চলছিল—অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে হানা দেয় বংশীহারি থানার পুলিশ। আর তাতেই ধরা পড়ে যায় পুরো চক্র। হাতেনাতে পাকড়াও হয় সাত মহিলা ও দুই পুরুষসহ মোট ১২ জন। গ্রেফতার করা হয়েছে উৎসব লজ অ্যান্ড ভবনের মালিক গৌরী পাল চৌধুরী ও লজের দুই কর্মচারীকে।

অভিযোগ, বহিরাগত অল্পবয়সী মহিলাদের এনে লজে রেখেই গড়ে তোলা হয়েছিল বাণিজ্যিক দেহব্যবসার আসর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহুদিন ধরেই সন্দেহের চোখে দেখছিলেন লজের অন্দর-মহল। কিন্তু শহরের মাঝখানে পুলিশের নাকের ডগায় এমন বেআইনি ব্যবসা চললেও কেন এতদিন প্রশাসনের টনক নড়ল না—সেই প্রশ্ন উঠছে প্রবলভাবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নালাগোলা, হরিরামপুর ও করদহ ও বালুরঘাট থেকে নিয়মিতভাবে মহিলাদের এনে দেহ ব্যবসায় নামাতেন গৌরী পাল চৌধুরী। এসডিপিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এদিনের অভিযানে লজ থেকে একাধিক প্রমাণও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধৃতদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

এদিকে শহরবাসীর ক্ষোভ, এই লজে অতীতে এমন অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠার পরও কেন নজরদারি বাড়ায়নি পুলিশ? কেন বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি? যদিও গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, “লজের আড়ালে মহিলাদের বাইরে থেকে এনে দেহ ব্যবসা চালানোর কিংপিন ছিলেন গৌরী পাল চৌধুরী। গোপন খবরের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।”

অভিযানের পর গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—এ ধরনের বেআইনি লজ-কারবারে দ্রুত লাগাম টানুক পুলিশ।