“বিয়ে না করেও বিবাহিত! কন্যাশ্রী থেকে বাদ, প্রশাসনিক তদন্তে চক্ষুচড়কগাছ পরিবারে, চাঞ্চল্য গঙ্গারামপুরে

0
193

সদ্য ১৮বছরে পা দিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রী,সরকারি খাতা কলমে দেখানো হলো বিবাহিত,চক্ষু চড়কগাছ অবিবাহিত ওই স্কুল ছাত্রীর,অভিযোগ দায়ের করলেন প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায়- তদন্তে প্রশাসন শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ৭ই মে দক্ষিণ দিনাজপুর।উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে সদ্য ১৮বছরে পা দিয়েছে স্কুল ছাত্রী।সরকারি খাতা কলমে সে বিবাহিত,কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে তার নাম সে বিবাহিত বলে ব্লক প্রশাসন তদন্ত করে কেটে দিয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানালেন ওই ছাত্রী।ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের অশোকগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উধুরা প্রাণনাথপুর এলাকার দুস্থ কৃষক পরিবারের মেয়ে রোজিনা খাতুনের সঙ্গে।অশোকগ্রাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাইস্কুলের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বিষয়টি জানার পরে গঙ্গারামপুর বিডিও অফিসে বুধবার যোগাযোগ করেন।সেখানেই সমাজকল্যাণ দপ্তরের এক কর্মী তাকে জানিয়েদেন,তদন্ত করে দেখা হয়েছে আপনি বিবাহিত,তাই প্রকল্পের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।ওই ছাত্রীর বাবা প্রশাসনের এমন কাজে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন,যাক মেয়েকে বিয়ে না দিলেও খাতা কলমে বিয়ে হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। হচ্ছেটা কি এসব?সরকারি অফিসে কারা করেছেন এমন কাজ তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।” বিষয়টি শুনে চমকে উঠেছেন স্কুলের এক শিক্ষক।পুরো ঘটনা জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ওই ছাত্রী।স্থানীয় তৃণমূল নেতা প্রশাসনের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।এমন ঘটনায় শোরগোল পড়েছে এলাকাজুড়ে। গঙ্গারামপুর ব্লকের অশোকগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উধুরা প্রাণনাথপুর এলাকার বাসিন্দা কৃষক হাফিজুর মিঞার একমাত্র মেয়ে রোজিনা।পরিবারে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে তাদের কোন মতে চলে সংসার। রোজিনা অশোগ্রামেরই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাইস্কুলে এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে সে।প্রশাসন সূত্রের খবর,স্কুলস্তরে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা ছাত্রীদের পড়াশোনা করানোর আরো বেশি সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রীদের ২৫হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয় সরকারের তরফে।সরকারি নিয়মে বলা রয়েছে,উচ্চ মাধ্যমিক পাস করলেই যেকোনো ছাত্রীকে সরকারের সেই ২৫হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে যদি সে ১৮বছর বয়স সেই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে পরিবারের তরফে তাকে বিয়ে না দেওয়া হয় তবেই সেই টাকা পেয়ে থাকে ওই ছাত্রীরা। ছাত্রী রোজিনা খাতুন জানালেন, সবে ১৮তে পা দিয়েছি।কন্যাশ্রী টাকা সকলেই পেয়েছে,আমি পায়নি ,খোজ নিতেই জানতে পারি আমার নাকি বিয়ে হয়েছে।প্রশাসনের এমন কাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানালাম।” ওই ছাত্রীর বাবা কৃষক হতদরিদ্র হাফিজুর মিঞা অভিযোগ করে বলেন,”যাক মেয়ের বিয়ে না দিলেও প্রশাসন খাতা কলমে তাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত না করে অফিসে বসে কাজ করলে এমনই হবে।প্রশাসনের এমন কাজে তাদেরকে ধিক্কার জানাই।” অশোকগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান বজিরুদ্দিন মিঞা জানিয়েছেন,”অফিসে বসে এমন কাজ করলে প্রকৃত গরীব পরিবারের মেয়েরা সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবে।প্রশাসনের বিষয়টা দেখা উচিত।” বিষয়টি জানার পরেই অশোকগ্রাম হাইস্কুলের এক শিক্ষক কামালদ্দিন আহমেদ জানালেন,ওই ছাত্রীরতো বিয়েই হয়নি।কে এমন রিপোর্ট কোথা থেকে দিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিষয়টি তারা বিডিও ও সমাজকল্যাণ দপ্তর অফিসে জানাবেন বলেও তিনি জানান।” গঙ্গারামপুর ব্লকের সমাজকল্যাণ দপ্তরের কাজের থাকা এক কর্মী জানান,”ওই ছাত্রীর বিয়ের তদন্ত রিপোর্ট জমা করাই এমন কাজ করা হয়েছে।ঘটনাস্থলে না গিয়ে এমন রিপোর্ট তিনি আপলোড করতে পারেন কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেও তিনি কোন কথা বলেননি সাংবাদিকদের সামনে।” যদিও গঙ্গারামপুর ব্লকের বিডিও অর্পিতা ঘোষাল জানিয়েছেন,”কোথায় সমস্যা তৈরি হয়েছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিউটি বর্মন সরকার জানিয়েছেন,”বিষয়টি আপনাদের কাছে জানতে পারলাম লিখিত অভিযোগ করলে যথাস্থানে পাঠিয়ে দেয়া হবে।” কোন সর্ষের মধ্যে থেকে গেল ভূত,কেনই বা এমন কাজ হচ্ছে ব্লকজুড়ে তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here