বালুরঘাট, ১৯ মার্চ —– দক্ষিণ দিনাজপুরে নির্বাচন ঘিরে শুরু হল নতুন বিতর্ক। বিচারাধীন ও বাতিল ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না—বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন ঘোষণার পরেই জেলায় এসে পৌঁছেছেন মোট ১১ জন পর্যবেক্ষক। তাঁদের মধ্যে ছ’টি বিধানসভার জন্য ছ’জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, দু’জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং তিনজন বিশেষ পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এদিন বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবনের আত্রেয়ী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বালাসুব্রামনিয়ান টি-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের মূল আলোচ্য হয়ে ওঠে ‘বিচারাধীন’ ও ‘ডিলিট’ ভোটারদের ভবিষ্যৎ। রাজনৈতিক দলগুলির প্রশ্নের উত্তরে পর্যবেক্ষকরা জানান, শুধুমাত্র বৈধ ও তালিকাভুক্ত ভোটাররাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। যাঁরা বর্তমানে তালিকার বাইরে, তাঁদের জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই ঘোষণাকেই কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। বামেদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে একাংশ ভোটারকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূলও
তৃণমূলের বিএলও টু তরুণ ভৌমিক সরাসরি পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, প্রতি সপ্তাহে বিচারাধীন ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং বাতিল ভোটারদের শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর পাল্টা কটাক্ষ—তৃণমূলের এই অভিযোগ আসলে ‘চুরি-সন্ত্রাসে’ বাধা পড়ার আশঙ্কা থেকেই।
বামফ্রন্টও এই ইস্যুতে সরব। তাদের নেতা কল্যাণ দাস বলেন, “আগেভাগে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ইতিবাচক হলেও, পুলিশের পক্ষপাতিত্ব ও প্রতিহিংসার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাঁরাও নিয়মিত তালিকা প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগেই ‘ভোটার তালিকা’ ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক ময়দান।























