বালুরঘাট থেকে বলিউড— সুরের জয়ে পুলিশের স্যালুট, সম্মানে ভাসলেন সৌম্যদীপ

0
23

বালুরঘাট থেকে বলিউড— সুরের জয়ে পুলিশের স্যালুট, সম্মানে ভাসলেন সৌম্যদীপ

বালুরঘাট, ৮ জানুয়ারী —- বালুরঘাট থেকে মুম্বাই— দূরত্বটা শুধু ভৌগোলিক নয়, স্বপ্নেরও। সেই স্বপ্নই বাস্তব রূপ পেল বালুরঘাটের সংগীতশিল্পী সৌম্যদীপ সরকারের কণ্ঠে। বলিউডের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘থাম্মা’-র টাইটেল ট্র্যাক ‘রাহে ইয়া না রাহে হাম’-এ তাঁর গাওয়া গান এখন দেশজুড়ে চর্চায়। ছবির মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন আয়ুষ্মান খুরানা ও রশ্মিকা মান্দানা। প্রমোশন মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে নজর কেড়েছেন ২৭ বছরের এই বাঙালি শিল্পী।আর সেই সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতেই বৃহস্পতিবার বিশেষ উদ্যোগ নিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ।বালুরঘাট শহরে উচ্ছ্বাসের আবহে জেলা পুলিশ সুপার অফিসে সৌম্যদীপকে সংবর্ধিত করেন জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল ও ডিএসপি সদর বিক্রম প্রসাদ। ছোট শহর থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার এই যাত্রাকে সম্মান জানিয়েই পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। পুলিশের মতে, সৌম্যদীপ আজ শুধু বাংলার নন, ভারতের গর্ব।

সৌম্যদীপের সাফল্যের পথ কিন্তু মোটেই মসৃণ ছিল না। এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে লড়াই, ভাঙা মন আর ফের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। গত বছর মুম্বাইয়ের এক সংগীত রিয়ালিটি শোয়ের অডিশনে বাদ পড়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের ছোট্ট একটি শহর বালুরঘাটের সৌম্যদীপ। কারণ— হিন্দি উচ্চারণে সামান্য ভুল। বিচারকদের তালিকায় ছিলেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক জুটি শচীন–জিগার। মন ভেঙে বাড়ি ফেরার ট্রেনের টিকিট কেটেও ফেলেছিলেন তিনি। ঠিক তখনই আসে সেই ফোন কল। দেখা করার আহ্বান। সেই এক বৈঠকেই বদলে যায় ভাগ্য। অল্প দিনের মধ্যেই তাঁর হাতে আসে ‘থাম্মা’-র টাইটেল ট্র্যাক গাওয়ার সুযোগ। সেখান থেকেই শুরু বলিউডের পথচলা।

বালুরঘাটের ব্রতী সংঘ পাড়ার বাসিন্দা সৌম্যদীপের বাবা বিপুল সরকার স্বাস্থ্যকর্মী, মা সুস্মিতা সরকার গৃহবধূ। ছয় বছর বয়সে আরোহী সংগীত সংস্থায় হাতে খড়ি। এরপর শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম। বালুরঘাটেই পড়াশোনা শেষ করে কলকাতার আশুতোষ কলেজে প্রাণীবিদ্যায় অনার্স পড়ার পাশাপাশি অনল চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সংগীত শিক্ষা। পরে রাজ্য সংগীত একাডেমিতে প্রশিক্ষণ। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিয়মিত রেওয়াজ— সেটাই তাঁর মূল শক্তি।

ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ বলেন, “বালুরঘাটের মতো একটি ছোট শহর থেকেও যে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা উঠে আসতে পারে, সৌম্যদীপ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জেলা পুলিশ সবসময় প্রতিভার পাশে রয়েছে এবং থাকবে।”
সংবর্ধনায় আবেগপ্রবণ সৌম্যদীপ বলেন, “নিজের শহরের পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে এমন সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। চাই, আমার শহর থেকে আরও অনেক শিল্পী উঠে আসুক।”
সুরের এই জয়ে একদিকে গর্বিত বালুরঘাট, অন্যদিকে স্পষ্ট বার্তা— প্রতিভার পাশে দাঁড়াতে সব সময় প্রস্তুত জেলা পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here