বনাঞ্চল ধ্বংস! গভীর জঙ্গলে বিচরণকারী রহস্যময় অতিথির দেখা বালুরঘাটে, চকভৃগুতে বিরল গন্ধগোকুল ঘিরে চাঞ্চল্য
বালুরঘাট, ১০ জানুয়ারী —- শুক্রবার গভীর রাতে বালুরঘাট শহর যেন হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ল বন্যপ্রাণের এক অজানা অধ্যায়ে। চকভৃগুর আখিরাপাড়া এলাকায় বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। শিয়ালের হামলা, নর্দমায় পড়ে গুরুতর আহত হওয়া প্রাণী, আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে যুবকের রক্তাক্ত হয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে রাতের অন্ধকারে তৈরি হয় এক নাটকীয় পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকটি শিয়ালের তাড়ায় দিশেহারা হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছিল গন্ধগোকুলটি। সেই সময় নর্দমায় পড়ে আহত হয় সে। অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা প্রাণীটিকে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান স্থানীয় যুবক দেবরাজ বসাক। প্রথমে বিড়াল ভেবেই তাকে নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। আচমকা দেবরাজের হাতে তীব্র কামড় বসায় গন্ধগোকুলটি। রক্তাক্ত অবস্থায় চিতকার শুরু করেন ওই যুবক।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দেবরাজকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আহত গন্ধগোকুলটিকে একটি ঘরে নিরাপদে আটকে রেখে বনদপ্তরে খবর দেন দেবরাজ ও তাঁর পরিবার।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গন্ধগোকুল বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের এক নম্বর তালিকাভুক্ত প্রাণী। সাধারণত গভীর জঙ্গল বা নির্জন এলাকায় বিচরণকারী এই প্রাণীর শহরের বুকে উপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। বনাঞ্চল ধ্বংস, খাদ্যের সন্ধান নাকি পথ হারিয়ে পড়া—কোন কারণেই বা শহরে ঢুকে পড়ল এই বিরল প্রাণী, তা খতিয়ে দেখছেন বনকর্তারা।
ঘটনার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে দেবরাজ বসাক বলেন, “শিয়ালের আক্রমণে প্রাণীটা আহত ছিল। সাহায্য করতে গিয়েই কামড় খাই। প্রথমে বিড়াল মনে হলেও তার আচরণে সন্দেহ হয়। পরে ইন্টারনেটেই জানতে পারি এটা গন্ধগোকুল।
দেবরাজের বাবা বিশ্বনাথ বসাক জানান, প্রাণীটির শরীর থেকে এমন সুন্দর গন্ধ বেরোচ্ছিল যে গোটা এলাকা ভরে যায়। তখনই বুঝেছিলাম এটা সাধারণ কোনও প্রাণী নয়।
বর্তমানে বনদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আহত গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার ও চিকিৎসার প্রক্রিয়া চলছে। বিরল বন্যপ্রাণের আকস্মিক আবির্ভাবে বালুরঘাটে এখন কৌতূহল আর উদ্বেগ—দুটোই সমান তালে বাড়ছে।


























