ফাঁকা চেয়ারেই ‘পরিবর্তন যাত্রা! দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপির সভায় জনশূন্যতা, ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, মুখ ফেরানোর আশঙ্কা

0
74

বালুরঘাট, ৭ মার্চ —– নাম পরিবর্তন যাত্রা, কিন্তু দৃশ্য যেন উল্টো ছবির—মঞ্চে নেতা, সামনে সারি সারি ফাঁকা চেয়ার! দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপির বহুল প্রচারিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুক্রবার কার্যত সেই ছবিই তুলে ধরল। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সভা হলেও জনসমাগম ছিল হাতেগোনা। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মানুষ কি তবে বিজেপির কর্মসূচি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে?
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুশমন্ডি, বংশীহারী ও গঙ্গারামপুরে পৌঁছয় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা। প্রত্যেক জায়গাতেই সভার আয়োজন করা হলেও প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি। বিশেষ করে গঙ্গারামপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সভায় অধিকাংশ চেয়ারই ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের বিজেপি সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল, মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু, জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী এবং গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়। কিন্তু নেতাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও ভিড় জমল না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে জেলাজুড়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিজেপির কর্মসূচিতে। বহু ভোটারের নাম বাতিল বা বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই সেই ক্ষোভ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

পরিসংখ্যানও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। জেলার পাঁচটি বিধানসভা মিলিয়ে মোট ভোটার ১২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে বাতিল দেখানো হয়েছে ২১ হাজার ৮০৩ জনকে এবং বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৫৮ জনকে। কুশমন্ডিতে বাতিল ১,৮১০ ও বিচারাধীন ২৭,৯৫৪ জন। বালুরঘাটে বাতিল ৪,৮৯৪ ও বিচারাধীন ৬,৫৭৭ জন। তপনে বাতিল ৬,৭৪৮ ও বিচারাধীন ১৫,৯০০ জন। গঙ্গারামপুরে বাতিল ৩,৭৩৫ ও বিচারাধীন ২০,৪১৩ জন। কুমারগঞ্জেও বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। উল্লেখযোগ্যভাবে কুমারগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তোরাব হোসেন মণ্ডলের নামও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে দাবি, বাতিল বা বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। বহু মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। নাম কাটা পড়া ভোটারদের মধ্যে সুরজিৎ সূত্রধর, সুজাতা মণ্ডল, দীপক সরকার ও অধীর দেবনাথদের অভিযোগ, সব নথি জমা দেওয়ার পরও আমাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছি আমরা।

এদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল কটাক্ষ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বিজেপি যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে, তার জবাব মানুষ ভোটেই দেবে।

যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর দাবি, মানুষ আমাদের সঙ্গেই রয়েছে। এবার আর হাওয়াই চটি নবান্নে যাবে না, পদ্মফুলই ক্ষমতায় আসবে।

তবে শুক্রবারের সভার ছবি বলছে অন্য কথা—পরিবর্তনের ডাক যত জোরালোই হোক, মাঠে কিন্তু সেই ডাক শোনার লোক ছিল খুবই কম।