বালুরঘাট, ৬ এপ্রিল….. ভোটার তালিকায় নাম নেই—এই আতঙ্কই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের সাধারণ মানুষের কাছে। তার উপর ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে উঠেছে দালালদের দাপট। সোমবার বালুরঘাট বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকা যেন এক অঘোষিত মেলা—গঙ্গারামপুর, তপন, কুমারগঞ্জ থেকে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। লক্ষ্য একটাই—ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধন।
কিন্তু সেই প্রয়োজনকেই পুঁজি করে সক্রিয় দালালচক্র। অভিযোগ, প্রকাশ্যেই চলছে ফর্ম পূরণের নামে টাকা তোলার কারবার। আবেদনকারীদের দাবি, মাত্র দু-তিনটি লাইন লিখেই ২০ থেকে ৩০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালালরা। কেউ প্রতিবাদ করলে কাজ ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। অশিক্ষিত ও অসহায় মানুষজন কার্যত বাধ্য হচ্ছেন এই ‘দালাল ট্যাক্স’ দিতে।
মিনা মন্ডল সরকার ও কমলা মন্ডলদের মতো বহু মানুষের কণ্ঠে একই সুর—পরিবারের নাম কাটা গেছে, কিছুই বুঝি না। কেউ সাহায্য করছে না, দালাল ছাড়া উপায় নেই। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থার ভেতরে ঢোকার আগেই দালালদের হাতে পকেট কাটা পড়ছে তাদের।
আরও উদ্বেগের বিষয়, পুরো ঘটনাই ঘটছে পুলিশের চোখের সামনেই। বিডিও অফিসে কড়া নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—তবুও দালালদের এমন দাপট কীভাবে? প্রশ্ন তুলছেন আবেদনকারীরা। অনেকেরই অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাই দালালদের এই বেপরোয়া হয়ে ওঠার মূল কারণ।
ভোটের মুখে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি—ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া—যদি এভাবেই দালালচক্রের কবলে পড়ে, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় দাঁড়াবে? বালুরঘাটের এই ছবি এখন শুধু এক দিনের ঘটনা নয়, বরং বড়সড় প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকে।
এখন দেখার, এই ‘দালালরাজ’-এর লাগাম টানতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়, নাকি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বিস্ফোরিত হয়।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর ফর্ম ফিলাপের ফাঁদ! বালুরঘাটে প্রশাসনের নাকের ডগায় অসহায়দের পকেট কাটছে দালালচক্র























