প্রার্থী হতে না পেরে ‘ঘরবন্দি’ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শংকর সরকার, জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে
শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ১০এপ্রিল দক্ষিণ দিনাজপুর।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৪১নম্বর গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই গঙ্গারামপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শংকর সরকার নিজেকে কার্যত ঘরবন্দি করে রেখেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
জানা যায়,আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গঙ্গারামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন শংকর সরকার। কিন্তু দলীয়ভাবে গৌতম দাস-এর নাম ঘোষণা হতেই তিনি দলীয় কার্যকলাপ থেকে দূরে সরে যান।সূত্রের খবর,প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে গঙ্গারামপুর নিউমার্কেটে অবস্থিত জেলা তৃণমূল পার্টি অফিসে তিনি আর যাননি।
বর্তমানে শংকর সরকার গঙ্গারামপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি জেলা পরিষদের মেন্টর পদেও রয়েছেন। গঙ্গারামপুর গঠি হাড়ের বাড়ি থেকে তিনি কার্যত ভোট ঘোষণা করে বের হননি বলে সূত্রে খবর।তবে নিজের নাম প্রার্থী তালিকায় না থাকায় তিনি ভোট ঘোষণার পরদিনই ব্লক সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।যদিও পরে সেই ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে।
গঙ্গারামপুর ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত। এর মধ্যে দমদমা,গঙ্গারামপুর ও নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পড়ে গঙ্গারামপুর বিধানসভায়।অন্যদিকে বাসুরিয়া, চালুন, অশোকগ্রাম ও উদয় গ্রাম পঞ্চায়েত গুলি কুমারগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত। পাশাপাশি সুকদেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর,(২)১,বেলবাড়ি,(৩)২ বেলবাড়ি প্রভৃতি অঞ্চল কুশমন্ডি বিধানসভার মধ্যে পড়ে।সম্প্রতি এই সব অঞ্চলে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শংকর সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি,শংকর সরকার ছিলেন গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কিছুদিনের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি তিনি।
টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে শংকর সরকার বলেন,“আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই দলের কোনও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারছি না। তবে আমি দলের প্রার্থীদের পাশে আছি।”
অন্যদিকে ৪১ নম্বর গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রর তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দাস জানান, “উনি অসুস্থ বলে শুনেছি। সুস্থ হলে নিশ্চয়ই আবার সক্রিয় হবেন।”
জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।”
তবে শংকর সরকারের এই ‘নীরবতা’কে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি সত্যিই অসুস্থ, নাকি প্রার্থী না হওয়ার ক্ষোভে কৌশলগতভাবে নিজেকে আড়ালে রেখেছেন—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে।
Home উত্তর বাংলা উত্তর দিনাজপুর প্রার্থী হতে না পেরে ‘ঘরবন্দি’ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শংকর সরকার, জোর চর্চা...



















