পুরসভার উদাসীনতা! দু’বছর ধরে দেদার পানীয় জলের অপচয়ে নীরব পুরসভা— ক্ষোভে ফুঁসছে হোসেনপুর
বালুরঘাট, ৬ ফেব্রুয়ারী —– একদিকে জল বাঁচানোর সরকারি প্রচার, অন্যদিকে বাস্তবে বালুরঘাটে পানীয় জলের প্রকাশ্য ‘হত্যা’! বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্পের সুফল তো দূরের কথা, উলটে দু’বছর ধরে খাড়ির উপর ফেটে যাওয়া পাইপ থেকে ফোয়ারার মতো বেরিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জল নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অথচ বারবার জানিয়েও উদাসীন বালুরঘাট পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর— এমনই ক্ষোভে সরব হয়েছেন শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার’বছর আগে পুরসভার উদ্যোগে হোসেনপুর এলাকায় প্রায় ১০০টি পরিবারকে পানীয় জলের সুবিধা দিতে আত্রেয়ী বা ডাঙা খাড়ির উপর দিয়ে একটি বড় লোহার পাইপলাইন বসানো হয়। অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মাঝপথে পাইপটি ফেটে যায়। সেখান থেকেই অবিরাম গতিতে পরিশ্রুত জল বেরিয়ে খাড়িতে পড়ছে। দিনে দিনে জল অপচয়ের পরিমাণ পৌঁছচ্ছে হাজার হাজার লিটারে।
এর প্রভাব পড়েছে এলাকার জল সরবরাহেও। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাইপ ফাটার জেরে বাড়ি বাড়ি জলের চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে। স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, দীর্ঘ দুবছর ধরে এনিয়ে বাসিন্দারা একাধিকবার স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ও পুরসভা কতৃপক্ষ কে লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও কোন কর্নপাত করে নি তারা।
এলাকার বাসিন্দা মিঠু দাস অধিকারী বলেন, “একদিনের ঘটনা নয়। দু’বছর ধরে চোখের সামনে পানীয় জল নষ্ট হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কাউন্সিলরকে, পুরসভাকেও জানিয়েছি। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি।
তৃষ্ণা পাল জানান, জল বাঁচানোর কথা সব জায়গায় বলা হয়, অথচ এখানে প্রতিদিন ফোয়ারার মতো জল বেরিয়ে যাচ্ছে। পুরসভা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।
অভিযোগের সুর আরও চড়া নীলা ঘোষের কণ্ঠে। তার দাবি, পুরসভার বাড়ি বাড়ি পানীয় জল প্রকল্পের জন্য ততকালীন কাউন্সিলর শঙ্কর দত্ত ওই পাইপটি তাদের জায়গার উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু টাকা পাওয়া তো দুরের কথা উলটে দুবছর ধরে ওই পাইপ ফেটে তার জলে বাড়ির পাড় ভেঙে খাড়িতে তলিয়ে যাচ্ছে। সর্বস্তরে জানানোর পরেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই কাউন্সিলর ও পুরসভার।
বাসিন্দাদের প্রশ্ন— যেখানে এক ফোঁটা পানীয় জলের জন্য মানুষ হাহাকার করে, সেখানে দিনের পর দিন জল নষ্ট হলেও কেন পুরসভা নিশ্চুপ?
যদিও বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিত সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং খুব শীঘ্রই মেরামতির কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে আশ্বাসে আর ভরসা রাখতে নারাজ হোসেনপুরের বাসিন্দারা। দুবছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার দ্রুত স্থায়ী সমাধানই চান তাঁরা।


























