পতিরামে স্ত্রী খুনে দোষী সাব্যস্ত আবগারি আধিকারিক দিবাকর! সাত বছর আগে রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল নিচাবন্দর
বালুরঘাট, ২৯ আগষ্ট ——সাত বছরের টানটান অপেক্ষার পর অবশেষে আদালতের কাঠগড়ায় দোষী সাব্যস্ত হলেন আবগারি দপ্তরের এক আধিকারিক দিবাকর ঘোষ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আদালতের অ্যাডিশনাল সেশনস ফার্স্ট কোর্টের বিচারক সন্তোষ পাঠক শুক্রবার রায় শুনিয়েছেন। শনিবার যার সাজা ঘোষণা করবে আদালত। যা নিয়েই আদালত মহলে এখন চর্চা—“যাবজ্জীবন, না কি মৃত্যুদণ্ড?”
দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ১০ জুন। দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামের নিচা বন্দর এলাকায় হঠাৎই গর্জে ওঠে গাড়ির শব্দ। অভিযোগ, দিবাকর ঘোষ নিজের বাড়ির উঠোনে প্রথমে গাড়ি চাপা দেন স্ত্রীকে। এরপর ধারালো অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার উপর। একের পর এক আঘাত, রক্তে ভেসে যায় উঠোন। স্তব্ধ হয়ে যায় এলাকা। যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে থাকে গোটা নিচাবন্দর।
যে মামলায় দিবাকরের মা-ও অভিযুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে প্রমাণের অভাবে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেন। কিন্তু দিবাকরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একে একে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারকের স্পষ্ট মন্তব্য—“অপরাধ অকাট্য।”
শুক্রবার রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর উত্তেজনায় টগবগ করে ওঠে। দোষী ঘোষণার মুহূর্তে ভেঙে পড়েন দিবাকরের পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, খুন হওয়া মহিলার আত্মীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তাঁদের কথায়, “অবশেষে সত্য জয়ী হল। কিন্তু আমরা চাই কঠোরতম শাস্তি।”
সরকারি আইনজীবী উদয় ঘোষ দস্তিদার বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড এতটাই নির্মম যে সমাজে দৃষ্টান্ত তৈরি করাই একমাত্র পথ। আদালতের রায় প্রমাণ করল—অপরাধ লুকোনো যায় না।” এখন সবার চোখ শনিবার দুপুরে—সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক। যাবজ্জীবন, না কি মৃত্যুদণ্ড? গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জুড়ে সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।