বালুরঘাট, ১৭ জানুয়ারী —– বিধানসভা নির্বাচনের আগে বালুরঘাট শহরের রাজনীতিতে ফের অস্বস্তির ছবি। পুরসভার চেয়ারম্যান বদলকে ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শনিবার প্রকাশ্যে চলে এল তাসা–বাজি আর উল্লাসের আড়ম্বরের মধ্য দিয়ে। প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্রকে সরিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন সুরজিত সাহা ওরফে বাবু। ভাইস চেয়ারম্যান করা হল স্কুল শিক্ষিকা মুনমুন করকে। কিন্তু প্রশাসনিক রদবদলের সেই মুহূর্তেই পুরসভা চত্বরে যে উদযাপনের দৃশ্য ধরা পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরের বহু বাসিন্দা।
নিজেদের দলেরই এক কাউন্সিলরকে সরিয়ে আর এক কাউন্সিলরকে বসানো—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাসা বাজানো ও বাজি ফাটানোর ছবি দেখে অনেকেই বিস্মিত। বাসিন্দাদের একাংশের কটাক্ষ, দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন তৃণমূল বিরোধী বাম–বিজেপিকে হারিয়ে পুরবোর্ড দখল করেছে। অথচ বাস্তবে তা নয়। নিজেদের দলের লোকের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে, দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নাগরিক পরিষেবাকে কার্যত অচল করে রেখে, সেই ‘সাফল্যেই’ উল্লাস—একে রাজনৈতিক রুচির দৃষ্টান্ত বলেও ব্যাখ্যা করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ ডিসেম্বর বালুরঘাট পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন ১৪ জন কাউন্সিলর। তারই জেরে ৩১ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয় চেয়ারম্যানের চেয়ার। এরপর শনিবার রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুরজিত সাহার নাম চূড়ান্ত হয়। যদিও দলীয় সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পুরসভায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর চাপানউতোর এদিন সভামঞ্চেই প্রকাশ্যে আসে।
তবে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল। তাঁর বক্তব্য, “সবটাই দলের নির্দেশে হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমেই সুরজিত সাহা চেয়ারম্যান ও মুনমুন কর ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন।
বিদায়ী চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, দল যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তিনি তেমনই কাজ করেছেন। আগামী দিনে শহরের উন্নয়নে নতুন চেয়ারম্যানের কাজে কোনও সমস্যা হলে সকলেই সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সুরজিত সাহা বলেন, “দল আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। বালুরঘাট শহরের উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করব। একই সুরে কথা বলেন ভাইস চেয়ারম্যান মুনমুন করও।
অন্যদিকে, বালুরঘাট সদর মহকুমাশাসক সুব্রত কুমার বর্মন জানান, সমস্ত প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এদিন নতুন চেয়ারম্যানকে পুরসভার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবু রাজনৈতিক হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে শহরবাসীর প্রশ্ন দলীয় চেয়ারবদলের এই উল্লাস কি আদৌ নাগরিক পরিষেবার ভরসা ফেরাতে পারবে, না কি গোষ্ঠীকোন্দলের রাজনীতিই আরও একবার প্রাধান্য পাবে?

























