নর্দমায় পরিণত নদী, নীরব প্রশাসন

0
48

শিলিগুড়ি:-

নদীকে দূষিত করা যেন আজ মানুষের অধিকারের মধ্যেই পড়ে গিয়েছে।দিন দিন দেশজুড়ে বাড়ছে দূষিত নদীর সংখ্যা,হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রাচীন জলধারার ঐতিহ্য। ঠিক তেমনই পরিস্থিতির সাক্ষী শিলিগুড়ি শহরও।একসময়ের প্রাণবন্ত নদী মহানন্দা আজ নানা জায়গায় দূষণের ভারে জর্জরিত।তারই সঙ্গে মহানন্দায় এসে মিশেছে শিলিগুড়ি ৪৬নম্বর ওয়ার্ডের মহিষমারী নদী-যে নদী একসময় ছিল বহু মানুষের পানীয় জলের ভরসা,আজ তা পরিণত হয়েছে কার্যত এক নর্দমায়।আয়তনে ছোট হলেও মহানন্দায় মিশে মহিষমারী নদী একটি বিস্তৃত রূপ নেয়।কিন্তু সেই রূপ আজ আবর্জনার স্তূপে ঢাকা।দিনের পর দিন নদীর বুকে জমছে প্লাস্টিক,ডাইপার,কনডম থেকে শুরু করে গৃহস্থালির যাবতীয় নোংরা বর্জ্য।যাদের এই আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্ব-অর্থাৎ প্রশাসন-তারা কার্যত নিশ্চুপ।আর সেই নীরবতার প্রতিবাদেই এবার নদীতে নামল একদল সচেতন যুবক-যুবতী।রবিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির ৪৬নম্বর ওয়ার্ডের মহিষমারী নদীর পাড়ে দেখা যায় ব্যস্ততার চিত্র।প্রায় ৬০জন যুবক-যুবতী হাতে হাতে নেমে পড়েন নদী পরিষ্কারে।কথা বলে জানা যায়,ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।তাদের বক্তব্য,আজ যেভাবে নদী-নালা ধ্বংস হচ্ছে,তাতে আগামী দিন অন্ধকার।তাই প্রতি সপ্তাহেই শিলিগুড়ির বিভিন্ন নদীতে গিয়ে তারা পরিষ্কারের কাজ করেন। জানেন,দু’একদিন পর আবার নদী নোংরা হবে,তবুও নিজেদের দায়িত্ব থেকে একচুলও সরতে চান না তারা।মূলত ‘দ্য ব্লাইন্ড অফ হোপ’ নামক যুব-যুবতীদের সংগঠনের উদ্যোগেই প্রতি রবিবার এই নদী পরিষ্কার কর্মসূচি নেওয়া হয়।এদিনের উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় শিলিগুড়ি সেলসান কলেজের এনএসএস ইউনিট সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুমন রায় জানান,“নদীর দিকে তাকালে কান্না পায়।যেভাবে দূষণ বাড়ছে,তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছুই রেখে যাচ্ছি না আমরা।একসময় এই মহিষমারী নদী কত সুন্দর ছিল,আর আজ নর্দমায় পরিণত হয়েছে।”নদী পরিষ্কার করতে নেমে তাদের অভিজ্ঞতা আরও তিক্ত।সুমন রায় জানান,এদিন স্বচক্ষে দেখেন এক ভদ্রমহিলা ব্রিজের উপর থেকে ঠাকুরের মালা,ফুল ও পূজার সামগ্রী নদীতে ফেলছেন।প্রতিবাদ জানালেও কোনও কথায় কর্ণপাত না করে সেই আবর্জনা নদীতেই ফেলে দেন তিনি।নদীর বুকে তখন একদিকে কনডম,ডাইপার, নোংরা বর্জ্য-অন্যদিকে ঠাকুরের ছবি ও পূজার সামগ্রী,সব মিলেমিশে এক ভয়াবহ ছবি।এদিন প্রায় শতাধিক বস্তা আবর্জনা তোলা হয় নদী থেকে।সেই আবর্জনার মধ্যেই একসঙ্গে পাওয়া যায় কনডম,ডাইপার,নোংরা প্লাস্টিকের সঙ্গে ঠাকুরের ছবি ও সামগ্রী।যা শুধু পরিবেশ দূষণের নয়,সামাজিক ও ভাবাবেগের দিক থেকেও গভীর আঘাত।না ভেবে,না চিন্তা করে নদীতে সবকিছু ফেলে দেওয়ার এই প্রবণতা একদিকে যেমন নদীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে,তেমনি মানবিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here