বালুরঘাট, ৮ ফেব্রুয়ারী — জেলা তো বটেই, রাজ্য কিংবা সারাদেশের রাজনীতিতেও বিরল নজির গড়ল দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের কুশকারি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন। কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে, এমনকি বামফ্রন্টকেও পাশে রেখে জোট বেঁধেও তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে সম্পূর্ণ ধরাশায়ী হল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই সমবায় ভোটে ৯-শূন্য ফলাফলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরে।
জানা গিয়েছে, কুশকারি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালে। ৯ আসন বিশিষ্ট এই সমবায়টিতে তখনও সবকটি আসনই দখলে ছিল তৃণমূলের। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর রবিবার ফের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ওঠে। ভোটের আগে এই সমবায়কেই ‘পাখির চোখ’ করেছিল বিজেপি। কুশকারি দখলে এলে হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের উপর চাপ বাড়ানো যাবে—এই হিসেবেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যায় বিজেপি, পাশে থাকে বামফ্রন্টও। কংগ্রেস-বিজেপি-বাম একত্র হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয় বিস্ময়—অনেকের মতে, দেশের রাজনীতিতে এমন জোট সত্যিই নজিরবিহীন।
তবে সব হিসেব ও সমীকরণ ভেঙে চুরমার করে দেয় ভোটের ফল। ৯টি আসনের একটিতেও খাতা খুলতে পারেনি কংগ্রেস-বিজেপি-বাম জোট। সকাল থেকে কুশকারি হাইস্কুল প্রাঙ্গণে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই চলে ভোটগ্রহণ। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
বংশীহারি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পার্থ প্রতিম মজুমদার বলেন, “দলীয় আদর্শ বিসর্জন দিয়ে শুধু তৃণমূলকে আটকাতে বিজেপি কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে জোট করেছে। সাধারণ মানুষ এসব মেনে নেয় না। ভোটবাক্সেই তার জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেবে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা ফনিভূষণ মাহাতোর পাল্টা দাবি, আগে সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। সেই সন্ত্রাস রুখতেই সবাই একজোট হয়েছিল।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোপাল দেব অবশ্য বলেন, এটা সমবায় নির্বাচন। এখানে ভোট দেন সমবায়ের সদস্যরা। দলীয় রাজনীতির প্রশ্ন নেই।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশকারি সমবায়ের ফলাফল বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
























