বালুরঘাট, ১৬ মার্চ….. ধুলোঝড়ের দাপটে রাস্তার উপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আস্ত একটি তোরণ। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ালেন পথচারী ও গাড়িচালকেরা। রবিবার রাতের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাট শহরের নারায়নপুর এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুরসভার নজরদারি ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট–মালদাগামী রাস্তার উপর গত ডিসেম্বর মাসে বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ, রাস্তার বড় অংশ দখল করেই ডেকোরেটার্সদের একাংশ ওই তোরণ তৈরি করে। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরসভার অনুমতি নিয়েই তোরণটি বানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রায় চার মাস ধরে সেই তোরণ রাস্তার উপর রেখেই শুধুমাত্র হোর্ডিং বদলে বদলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল একটি মহল।
রবিবার রাতে দমকা হাওয়ার ঝাপটায় আচমকাই ভেঙে পড়ে বাঁশের সেই তোরণ। মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় সড়কের উপর ছড়িয়ে পড়ে বাঁশের কাঠামো। ফলে কিছু সময়ের জন্য কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিজের বাড়ি থেকে অল্প দূরে ঘটনা ঘটার খবর পেয়েই হাতে দা নিয়ে ছুটে এসে ভাঙা তোরণের বাঁশ কেটে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগান তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শিখা মহন্ত সাহা চৌধুরীও। তাঁদের উদ্যোগেই প্রায় এক ঘণ্টা পরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
তবে এই ঘটনার পরই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। মাসের পর মাস ধরে শহরের প্রধান রাস্তার উপর কীভাবে ওই তোরণ দাঁড়িয়ে ছিল? কেন তা সরানোর উদ্যোগ নেয়নি পুরপ্রশাসন? যদি ওই তোরণ ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটত, তার দায় নিত কে— সেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যদিও বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা এ বিষয়ে দায় চাপিয়েছেন পূর্বতন প্রশাসনের উপর। তাঁর দাবি, রাস্তার উপর এভাবে তোরণ রাখা যাবে না। কীভাবে এতদিন ধরে তা রাখা হয়েছিল, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকেই শহরে অবৈধ তোরণ নির্মাণ ও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর ধুলোঝড়ে ভেঙে পড়ল অবৈধ তোরণ, অল্পের জন্য রক্ষা পেল পথচারীরা — চার...























