দলবদলে ফাটল! সোনা পালকে ঘিরে বালুরঘাটে কংগ্রেসের প্রকাশ্য বিদ্রোহ, প্রদেশ সভাপতিকে ঘেরাও করে আছড়ে পড়লো নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ

0
221

দলবদলে ফাটল! সোনা পালকে ঘিরে বালুরঘাটে কংগ্রেসের প্রকাশ্য বিদ্রোহ, প্রদেশ সভাপতিকে ঘেরাও করে আছড়ে পড়লো নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ

বালুরঘাট, ৯ জানুয়ারী —– সোনা পালের দলবদলকে ঘিরে বালুরঘাটে শুক্রবার কংগ্রেসের অন্দরে যা ঘটল, তা নিছক অসন্তোষ নয়—বরং দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত নেতা সোনা ওরফে শুভাশিষ পালের কংগ্রেসে যোগদানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসে প্রকাশ্যে আসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই দলবদল ঘিরে অস্বস্তিতে পড়ল প্রদেশ কংগ্রেস।
শুক্রবার বালুরঘাট জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা গোলাম আহমেদ মীরের হাত ধরে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন সোনা পাল। কিন্তু মঞ্চে ফুলের তোড়া উঠতেই নিচে জমতে থাকে অসন্তোষের আগুন। দলের একাংশ নেতা-কর্মীর অভিযোগ, যাঁর বিরুদ্ধে গরিব মানুষের শৌচালয় নির্মাণের টাকা আত্মসাৎ-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যাঁকে একসময় তৃণমূল কংগ্রেস বহিষ্কার করেছিল এবং যিনি পরে বিজেপির পথ ধরেছিলেন—তাঁকেই আজ কংগ্রেসের মুখ করে তোলা হচ্ছে। বিক্ষুব্ধদের আরো দাবি, আদর্শ, ত্যাগ ও সংগঠনের শুদ্ধতাকে উপেক্ষা করে কংগ্রেস ক্রমশ দলবদলুদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থেকে লড়াই করা কর্মীরা আজ ব্রাত্য। রাতভর ক্ষোভ জমতে জমতেই শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি নেয় আরও নাটকীয় মোড়।
এদিন সাতসকালে শতাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মী বালুরঘাটের সার্কিট হাউসে ঢুকে রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে কার্যত ঘেরাও করেন। জেলার প্রবীণ নেতা অঞ্জন চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের কমিটির বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোপাল দেবের বিরুদ্ধে ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ মনোভাবের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষুব্ধরা। মুহূর্তে উত্তেজনার পারদ চড়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রদেশ সভাপতির আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ মানতে নারাজ শুভঙ্কর সরকার।
তাঁর বক্তব্য, “কংগ্রেস একটি গণতান্ত্রিক দল। এখানে বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে। গণতন্ত্র আছে বলেই মতভেদ প্রকাশ্যে আসে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাকে রক্ষা করতে হলে কংগ্রেসেই আসতে হবে। এতদিন জানালা খোলা ছিল, এবার দরজাও খুলে দেওয়া হয়েছে কংগ্রসের।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “কংগ্রেস বিজেপির মতো ওয়াশিং মেশিন নয়। এখানে সবাই ভালো-খারাপ নিয়েই আসেন। কিন্তু দলে ঢোকার পর খারাপ কাজের জায়গা নেই।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দলবদলের এই রাজনীতিতেই কি নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল রাজ্যের কংগ্রেস?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here