তমালবৃক্ষকে কেন্দ্র করেকাদিঘাট গম্ভীরাতলায় ৪০ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান

0
48

তমালবৃক্ষকে কেন্দ্র করে গঙ্গারামপুর পুরসভার কাদিঘাট গম্ভীরাতলায় ৪০ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভক্তসমাগমে মুখর এলাকা
গঙ্গারামপুর, ১৫ জানুয়ারি: দক্ষিণ দিনাজপুর।
পৌরাণিক তমালবৃক্ষকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাদিঘাট গম্ভীরাতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে এক বিশাল ধর্মীয় পীঠস্থান। প্রতি বছরের মতো এবছরও সেখানে মহাধুমধাম সহকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৪০ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান। ২৭পৌষ ভোর থেকে শুরু হওয়া এই নাম সংকীর্তন চলবে আগামী ৪ মাঘ, রবিবার ভোর পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে গোটা এলাকায় উৎসবের আবহ। ভক্তদের ঢল নেমেছে কীর্তন শুনতে ও মানত পূরণে। ভক্তরা বিপুল পরিমাণে বাতাসা ভোগ নিবেদন করছেন নাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে হরে কৃষ্ণ নামের ধ্বনি।
এই মহানাম যজ্ঞে রানাঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর, হরিরামপুর, তপন সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নামকরা কীর্তন শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন। তাঁদের কণ্ঠে পরিবেশিত নামসংকীর্তনে মুগ্ধ ভক্তরা। জানা গিয়েছে, তমালবৃক্ষের পৌরাণিক মাহাত্ম্য রামায়ণ মতে, বনবাসকালে শ্রীরাম পঞ্চবটী বনে অবস্থান করেছিলেন, যেখানে পাঁচটি পবিত্র বৃক্ষের একটি ছিল তমালবৃক্ষ। বিশ্বাস করা হয়, এই তমালবৃক্ষ অত্যন্ত দুর্লভ এবং বর্তমানে কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটি তমালবৃক্ষ দেখা যায়। এলাকাবাসীদের দাবি, গম্ভীরাতলার এই তমালবৃক্ষটিও বহু প্রাচীন ও বিরাট আকারের।স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২৮ বছর আগে এলাকার এক জৈন সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি এই তমালবৃক্ষকে কেন্দ্র করেই নাম যজ্ঞ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।সেই সময় থেকেই প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে ৪০প্রহর ব্যাপী নাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
উৎসব কমিটি ও আয়োজন
এবছরের উৎসব কমিটির সভাপতি দিগেন হালদার, সহ-সভাপতি গোপাল হালদার, সম্পাদক সাধন হালদার (পড়ান), সহ-সম্পাদক রাজেন্দ্র হালদার ও নারদ হালদার। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন রতন হালদার ও শুকলাল হালদার। হিসাবরক্ষক সুভাষ হালদার, সহ-হিসাবরক্ষক সুজন হালদার, ক্যাশিয়ার কালিপদ হালদার। উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছেন সঞ্জয় হালদার, সূর্য হালদার, সুরেশ হালদার, সুনীল হালদার, অচিন্ত্য হালদার, কৃষ্ণ হালদার, ভজন হালদার, কুমার হালদার ও দুলাল হালদার-সহ আরও অনেকে। সকল গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
নামকরা সম্প্রদায়ের কীর্তন পরিবেশনা এবছর ফুলতলা বিকোর রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায়, দেশবন্ধু নগর(জলপাইগুড়ি), দ্বীপ দয়াময় সম্প্রদায়, রাধাগোবিন্দ সম্প্রদায়িক, ডিটলহাট শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায়, তপনের লীলা ও ঝুমুর কীর্তন দল, জয়গুরু সম্প্রদায় ও গঙ্গারামপুরের একাধিক নামী সম্প্রদায় কীর্তন পরিবেশন করছেন।
অনুষ্ঠানের সম্পাদক সাধন হালদার (পড়ান) জানান,
“তমালবৃক্ষকে কেন্দ্র করেই এই নামযজ্ঞের সূচনা হয়েছিল। কলিযুগে হরে কৃষ্ণ নামই মুক্তির একমাত্র পথ। গ্রামবাসী ও সকল মানুষের মঙ্গল কামনায় আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি এবং আগামী দিনেও এই ধারা বজায় থাকবে।”
নামযজ্ঞ চলাকালীন বহু ভক্তের মানত পূরণ হওয়ায় বাতাসা ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কাদিঘাট গম্ভীরাতলার মহানাম যজ্ঞ এখন ভক্তি, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভক্তদের ভিড় হচ্ছে ব্যাপক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here