বালুরঘাট, ২ এপ্রিল —– বিজেপিতে আদিবাসী বিক্ষোভ! বালুরঘাটের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নিজেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা বিজেপির এসটি মোর্চার জেলা সভাপতির। বৃহস্পতিবার বালুরঘাট শহরের একটি বেসরকারী লজে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন সুশীল মার্ডি। তার অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে বালুরঘাট বিধানসভা আসনের টিকিট বিক্রি করেছে বিজেপি নেতাদের একাংশ। আর যে কারনে অশোক লাহিড়ীর মতো সুসভ্য মানুষকে এই আসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বিজেপির এসটি মোর্চার জেলা সভাপতি সুশীল মার্ডি।
প্রাক্তন সেনাকর্মী ও বর্তমানে শিক্ষক সুশীলবাবুর কণ্ঠে এদিন স্পষ্ট ক্ষোভ। তাঁর অভিযোগ, “বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিট মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে। যাঁরা বছরের পর বছর সংগঠন গড়েছেন, তাঁদের সরিয়ে হঠাৎ করে আসা ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে। এটা আদর্শের নয়, অর্থের রাজনীতি। বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়কে ঘিরে সরাসরি নাম না করেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। পাশাপাশি অশোক লাহিড়ীর মতো পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
কুমারগঞ্জের বেলতাড়ার বাসিন্দা সুশীল মার্ডির দাবি, এই কেন্দ্রে আদিবাসী ভোট সহ মোট অন্তত ১৯ শতাংশ ভোট তাঁর পক্ষে রয়েছে। মানুষের সমর্থনই আমার আসল শক্তি। আমি নিশ্চিত, জয় আমাদেরই হবে—দাবি তাঁর। ৪ ঠা এপ্রিল নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর পাল্টা দাবি, “দীর্ঘদিন ধরেই দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন সুশীল মার্ডি। এদিন তা প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হয়েছে, দ্রুত সাংগঠনিক পদ থেকে অপসারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, টিকিট বিক্রির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধীদের চক্রান্তেরই অংশ। বিজেপি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল—এই বার্তা দিতেও ভোলেননি তিনি।
ভোটের মুখে এই নাটকীয় বিদ্রোহ বালুরঘাটে বিজেপির অন্দরের অস্থিরতাকে স্পষ্ট করে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফাটল ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর সবার।
Home উত্তর বাংলা দক্ষিণ দিনাজপুর টিকিট বিক্রি’র অভিযোগে বিজেপিতে বিদ্রোহ! ফাটল আদিবাসী সংগঠনে, বালুরঘাটে নির্দল লড়াইয়ে নামছেন...






















