জেলাশাসকের অফিসের দরজা আটকে রান্না আদিবাসীদের, নীরব প্রশাসন! সাঁওতালি শিক্ষার দাবিতে তীর-ধনুক হাতে অবরুদ্ধ বালুরঘাট
বালুরঘাট, ১৩ জানুয়ারী —– আদিবাসী আন্দোলনের জেরে ত্রস্ত বালুরঘাট শহর। জেলাশাসকের অফিসের দরজা আটকে রান্না চললো বিক্ষোভকারীদের। দেখেও দেখলো না পুলিশ বা প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই এনিয়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনার ছায়ায় বালুরঘাট শহরের প্রশাসনিক কেন্দ্রে। জেলাশাসকের দপ্তরের মূল গেট আটকে রাস্তাতেই চুলো জ্বালিয়ে চলে রান্না—আর সেই চুলোর চারপাশে তীর-ধনুক, কুড়ুল, হাঁসুয়া হাতে শতাধিক আদিবাসী আন্দোলনকারী। আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের ডাকে হওয়া এই বিক্ষোভে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা অফিসপাড়া। দিনের পর দিন প্রশাসনের উপেক্ষার প্রতিবাদে এদিন ক্ষোভ যেন আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি স্পষ্ট—দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাঁওতালি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলিতে অবিলম্বে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ এবং স্কুলগুলিকে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করতে হবে। অভিযোগ, প্রায় এক যুগ আগে জেলায় চারটি সাঁওতাল মাধ্যম স্কুল গড়ে উঠলেও আজও কোনও স্কুলেই স্থায়ী শিক্ষক নেই। অনেক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষকও। ড্রাফট শিক্ষকের ভরসায় কোনওমতে চলছে পাঠদান। বিষয়টি বারবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলেই অভিযোগ আদিবাসী সংগঠনের।
এদিন সকাল থেকে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে জমায়েত হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল স্কুলপড়ুয়ারাও। অলচিকি লিপিতে মাতৃভাষা সাঁওতালিতে পাঠদানের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই দপ্তরের মূল গেটের সামনে দড়ি বেঁধে ঢোকা-বেরোনো পুরোপুরি বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের ধরনায় বসে পড়েন তাঁরা। এলপিজি সিলিন্ডার, হাঁড়ি-পাতিল সাজিয়ে খিচুড়ি রান্না শুরু হয় আন্দোলনকারীদের জন্য। একসময় দপ্তরে তালা ঝোলানোর হুঁশিয়ারিতেও চরমে ওঠে উত্তেজনা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে হাজির হন বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস, সদর ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। মাঝেমধ্যেই পুলিশের তরফে ধরনা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে জেলা প্রশাসনের কোনও শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আদিবাসী জনসংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ। বালুরঘাট ছাড়াও তপন, বংশীহারী ও কুশমন্ডি এলাকায় আদিবাসীদের বসবাস বেশি। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই শিক্ষা ও ভাষার অধিকারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের জেলা সভাপতি পরিমল মার্ডির স্পষ্ট বার্তা, “দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রশাসনের দরজায় বসেই আমাদের লড়াই।


























