বালুরঘাট, ১৬ ফেব্রুয়ারী —– বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উন্নয়নের ঝড় তুলতে গ্রামবাংলায় রাস্তা নির্মাণের তৎপরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই সামনে এল প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অস্বস্তিতে ফেলা এক ‘টেন্ডার কাণ্ড’। ভুয়ো ক্রেডেনশিয়াল জমা দিয়ে সরকারি কাজের বরাত পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নজরদারি কতটা কার্যকর—তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
জানা গেছে, তপন ব্লকের আজমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার লক্ষ্মীপুর থেকে হরিমন্দির পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার বিটুমিনাস রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, বালুরঘাটের ‘ওম ডেভলপার’ নামে একটি সংস্থা ভুয়ো অভিজ্ঞতার নথি জমা দিয়েই কাজের বরাত পায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জেলা পরিষদে অভিযোগ জমা পড়ে এবং প্রশাসনিক স্তরে নড়াচড়া শুরু হয়।
এরপরই জরুরি বৈঠকে বসে টেন্ডার কমিটি। নথিপত্র পুনরায় খতিয়ে দেখতেই সামনে আসে একাধিক অসঙ্গতি। যে অভিযোগের সত্যতা মিলতেই সোমবার বাতিল করা হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থার বরাত। তবে এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে নথি পরে ভুয়ো বলে প্রমাণিত হল, তা প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ল না কেন? সরকারি অর্থের প্রকল্পে নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা।
সূত্রের দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের ডাকা এদিনের বৈঠকেও তুমুল বচসা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে দ্রুত কাজ শুরু করার তাড়াহুড়োয় নিয়ম মানার ক্ষেত্রে গাফিলতি হয়েছে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা জানান, ভুয়ো ক্রেডেনশিয়ালের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অবিলম্বে বরাত বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে আধার ও ভোটার কার্ড জমা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ‘ওম ডেভলপার’-এর কর্নধার শুভম আগারওয়াল বলেন, “নথিতে কিছু ত্রুটি ছিল, সেই কারণেই কাজ বন্ধ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
ভোটের আগে উন্নয়নের বার্তা দিতে গিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ফাঁকফোকর প্রকাশ্যে চলে এল কি না—এখন সেই প্রশ্নেই সরগরম জেলা রাজনীতি।























