বালুরঘাট, ১৭ জানুয়ারী —– ছানার পায়েস খাওয়ানোর প্রলোভনে বিশ্বাস অর্জন—আর সেই বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য দিতে হল স্কুলপড়ুয়াকে। দিনেদুপুরে বালুরঘাট শহরের ব্যস্ত পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার সকালে এক নবম শ্রেণির ছাত্রের গলা থেকে রুপোর মালা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসী তৎপরতায় পালানোর আগেই ধরা পড়ে অভিযুক্ত। চলে গনপিটুনিও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট ব্লকের বাউল গ্রামের বাসিন্দা অংশু পাল শনিবার সকালে টিউশন পড়তে শহরে আসে। পুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে চপ কিনতে গিয়ে এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তার আলাপ হয়। অভিযোগ, কথাবার্তার ছলে ধীরে ধীরে অংশুর বিশ্বাস অর্জন করে ওই ব্যক্তি। এরপর কাছের একটি মিষ্টির দোকানে ছানার পায়েস খাওয়ানোর প্রস্তাব দেয়।
মিষ্টির দোকানে বসে অংশুর গলার রুপোর মালার প্রশংসা করতে করতে কৌশলে মালায় হাত দেয় অভিযুক্ত। পরে শৌচালয়ে যাওয়ার অজুহাতে উঠে যেতেই সন্দেহ হয়। মুহূর্তেই বোঝা যায়, মালা উধাও। চিৎকার শুনে বাসস্ট্যান্ডজুড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। পালানোর চেষ্টা করলেও জনতার ধাওয়ায় ধরা পড়ে দুষ্কৃতী, চলে বেধড়ক মারধরও। তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয় মালাটিও।
পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে দিনেদুপুরে এমন ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
অংশুর বক্তব্য, ‘ওই ব্যক্তি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি মিষ্টির দোকানে ছানার পায়েস খাওয়ানোর প্রস্তাব দেয়। পূর্বপরিচয় না থাকলেও অত্যন্ত আপন ভাব দেখাতে থাকে অভিযুক্ত। মিষ্টির দোকানে বসে রুপোর মালার প্রশংসা করে ও কথার ফাঁকে মালায় হাত দেয়। কিছুক্ষণ পর শৌচালয়ে যাওয়ার অজুহাতে উঠে যায় সে। তখনই বুঝতে পারি গলার মালা নেই। চিৎকার শুরু করতেই অভিযুক্ত বাসস্ট্যান্ডের ভিতর দিয়ে প্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করে।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা শংকর চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলাম। দেখি একটি বাচ্চা ছেলে একজনের পিছনে ছুটছে। জিজ্ঞেস করতেই ছিনতাইয়ের কথা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাইকে বসিয়ে দুষ্কৃতীর পিছনে ধাওয়া করি। আরও একজন সাহায্যে এগিয়ে আসেন। শেষে পিছনের পাড়ায় গিয়ে ওকে ধরে ফেলা হয়। তার কাছ থেকেই মালাটি উদ্ধার হয়। দুষ্কৃতীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।’
























