গৌড়বঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজিস্টারকে সরিয়ে দেওয়ায় উপাচার্যকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বাক বিতন্ডা অধ্যাপকদের একাংশের, অধ্যাপকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ উপাচার্যের, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজজ্ঞতা নিয়ে তৃণমূল বিজেপির তরজা, শাসক দলের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। উপাচার্যকে ক্লিনচিট তৃণমূলের

0
22

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক চরম বাক বিতন্ডা ঘিরে উত্তেজনা।উপাচার্যকে আঙুল উঁচিয়ে কথা অধ্যাপকদের।ইসির মিটিং না করে রেজিস্টারকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উপাচার্যের বিরুদ্ধে।আর যা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা।অধ্যাপকদের একাংশো উপাচার্যকে ঘিরে রেখেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপকদের সঙ্গে বাক বিতন্ডাও হয়।
গত ২০২৪, ২৩ মার্চ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার পদে অস্থায়ীভাবে বসানো হয় লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ দাস কে। তার কাজের সময়কাল ছিল ২০২৬ সালের বাইশে মার্চ পর্যন্ত।
সম্প্রতি জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখ, তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটির জন্য আবেদন করেন। এরপরই চলতি মাসের ১২ তারিখ তাকে, তারপর থেকে অব্যাহতির নোটিশ পাঠানো হয় উপাচার্যের পক্ষ থেকে। যদিও অব্যাহতির কোন কারণ নোটিসে জানানো হয়নি।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বিশ্বজিৎ দাসকে পরিবর্তন করা হয়।তার জায়গায় রেজিস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জ্যোৎস্না সাহাকে।যিনি ফিলোজাফি বিভাগের অধ্যাপিকা। আর এই নিয়ে প্রফেসরদের একাংশ ঘেরাও করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্যকে।এরপর উপাচার্যর সঙ্গে অধ্যাপকদের রুদ্ধদ্বার মিটিং শুরু হয়।মিটিংয়ের মধ্যেই উপাচার্যকে আঙ্গুল উঁচিয়ে তেরে যায় অধ্যাপকদের একাংশ। শুরু বাকবিতন্ডা।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিয়ান সাধণ সাহা বলেন,আমরা উপাচার্যের কাছে জানতে এসেছি বেশ কয়েকটি বিষয়। যেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যাটু রয়েছে সরকারের যে নিয়ম রয়েছে সেই অনুযায়ী উনি কাজ করছেন না। ফলে আমাদের মূল কথা হচ্ছে ইউজিসি সরকারি যে নিয়ম রয়েছে উচ্চ শিক্ষায় সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্ট্যাটু রয়েছে। সেই অনুযায়ী উনাকে কাজ করতে হবে। উনি কোন স্টেটুটকে মান্যতা দিচ্ছেন না।উনি অ্যাক্টকে মান্যতা দিচ্ছেন না।এইগুলো আমরা লক্ষ্য করেছি।এই জন্য আমরা আসতে বাধ্য হয়েছি। আমরা যতটুকু জানি রেজিস্টারের দায়িত্ব এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল দেবে।সেই কাউন্সেলিং এর মিটিং করে রেজিস্টার এর দায়িত্ব দেবে। মূলত এই দায়িত্ব দেওয়ার কাজ এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর।এক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান উপাচার্য। কিন্তু কোন মিটিং হয়নি। উনি কাকে নিয়ে মিটিং করেছে আমি জানিনা। আমরা এখানে বাঁধনুবাদ করতে আসিনি।একটা নিয়ম রয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ করে সেটাই বলতে এসেছি। খুব ভদ্র ভাবে বলেছি। আমার মনে হয়েছে উনি নিয়ম মানছে না। নিয়ম অনুযায়ী গুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা যে সময়সীমা তা পার হয়ে গেছে।এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নিরাপত্তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কি চালানোর জন্য যে পজিটিভ উদ্যোগ নেওয়ার দরকার উনি সেই উদ্যোগ নেয়নি।
রেজিস্টার তথা লাইবেরিয়ান বিশ্বজিৎ দাস বলেন, আমি ২০২৪ সালের ২৩ শে মার্চ থেকেই দায়িত্বে ছিলাম।শেষ ছয় মাস আমাকে সরকার দিয়েছিল।আমার ছেলের পরীক্ষা রয়েছে।তাই ছুটির জন্য আবেদন করেছিলাম। আমাকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে।আমি আজ এসেছি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। আমি দু বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন সুযোগ সুবিধা নেয় নি।চিঠিতে অপসারণের কারণ কোন কিছু লেখা নেই।
বেলা ১১ টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ঘেরাও থাকার পর মুক্তহন উপাচার্য।বিশ্ববিদ্যালয়ের এটি কাম্য নয়। যারা আঙুল তুলে হুমকি দিচ্ছে। তারা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর মেম্বার। তারা দায়িত্বশীল।
যিনি রেজিস্টার ছিলেন তিনি অস্থায়ী। উনার আসল পোস্ট লাইব্রেরিয়ান। আমাকে রেজিস্টার পড়বে কাউকে রাখতে হবে। উনি লম্বা ছুটি চেয়েছিলেন। আমি উনাকে বলেছিলাম ছুটিটা আপনি উইথড্র করে নিন। কিন্তু তিনি তা করেননি। আর সেই কারণেই নতুন রেজিস্টার নিয়োগ করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরকে জানিয়ে কাল বিকেলে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বেলা 11 টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গ্রামে থাকার পর মুক্ত হন উপাচার্য। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি দক্ষিণ মালদার সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র অম্লান ভাদুড়ী বলেন,
তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের গ্রুপ বাজি আর দুর্নীতির জন্য প্রথম থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া দরকার। এতে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি হচ্ছে।
পাল্টা তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কিছু কুচক্রী, বিরোধীদের মদতেতে বিশ্ববিদ্যালয় অরাজগতার সৃষ্টি করছে বারবার। শিক্ষা দপ্তর সেই কারণে এই উপাচার্যকে পাঠিয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তার পাশে আমরা আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here