গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, ভস্মীভূত কৃষকের বাড়ি—পুড়ে মৃত্যু দুই গবাদি পশুর, খোলা আকাশের নীচে অসহায় পরিবার

0
31

শীতল চক্রবর্তী বালুরঘাট ২৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেল একটি কৃষক পরিবারের সব সম্বল। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে দুটি গবাদি পশুর। সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গঙ্গারামপুর থানার অশোকগ্রাম এলাকার শিবকৃষ্ণপুর গ্রামে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়।
জানা গিয়েছে, অশোকগ্রামের শিবকৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা রাফায়েল মুর্মু পেশায় একজন কৃষক। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে হঠাৎই তাঁর গোয়ালঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোয়ালঘর সংলগ্ন দুটি শোবার ঘরে।
আগুনের তীব্র তাপে ঘুম ভেঙে যায় পরিবারের সকলের। ঘুমের ঘোরেই উঠে দেখেন গোয়ালঘর ও শোবার ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রাণ বাঁচাতে গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেওয়ার সুযোগ পাননি তাঁরা। কোনওরকমে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে দুটি গবাদি পশুর। চোখের সামনে জীবনের সবকিছু আগুনে পুড়ে যেতে দেখে চিৎকার শুরু করেন রাফায়েল ও তাঁর পরিবার। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় দমকলে। তবে দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছনোর আগেই গ্রামবাসীরা পাম্প মেশিন লাগিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। পুড়ে ছাই হয়ে যায় গোয়ালঘর ও দুটি ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র, জামাকাপড়, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ধান, চাল সহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। বর্তমানে পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাঁদের।
সবকিছু হারিয়ে রাফায়েল মুর্মু ও তাঁর পরিবার এখন খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ প্রশাসনের কাছে দ্রুত সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন অসহায় পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্ত এক মহিলা বলেন,”বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের। প্রশাসন পাশে না দাঁড়ালে কিছু করার নেই।” গঙ্গারামপুর ব্লকের বিডিও অর্পিতা ঘোষাল বলেন,”পঞ্চায়েত কি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই পরিবারগুলো পাশে দাঁড়ানোর জন্য।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here