ক্লাসরুমেই মালাবদল-বিয়ে! গঙ্গারামপুরের আবেস কুড়ি হাইমাদ্রাসার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় দক্ষিণ দিনাজপুর
বালুরঘাট, ২৮ নভেম্বর —- দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর ব্লকের আবেস কুড়ি হাইমাদ্রাসায় স্কুল-পঠনপাঠনকে ছাপিয়ে গেল ‘বিয়ের আসর’। ক্লাসরুমের ভিতরেই স্কুল ইউনিফর্ম পরা একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা পরিচয়পত্রের ফিতে দিয়ে একে অপরের সাথে মালাবদল করছে—এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ঝড় উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দি সিনেমার বিখ্যাত গান ‘মুবারক হো তুমকো…’ আর সহপাঠীদের ফুল ছিটিয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে ক্লাসরুম যেন পরিণত হয়েছে রীতিমতো ‘বিয়ের মঞ্চে’।
ভিডিওটি প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন স্কুলেরই ছাত্র সোয়েল রানা, ক্যাপশনে লেখেন ‘স্কুলের কিছু মিষ্টি মুহূর্ত’। কিন্তু সেই ‘মুহূর্ত’ই মুহূর্তে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে ফেলেছে স্কুলকে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শুধু অনভিপ্রেত আচরণই নয়, স্কুল চলাকালীন সময়ে কী করে ছাত্র-ছাত্রীরা মোবাইল ফোন নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করল, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, এক হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর অবস্থানে স্কুলের পঠনপাঠন যে একপ্রকার লাটে উঠেছে এই ঘটনা যেন তাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর আলম অবশ্য স্বীকার করেছেন, ভিডিওটি একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং সোমবার শিক্ষক-অভিভাবক বৈঠকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে অভিভাবক এবং স্থানীয়রা স্পষ্ট বলছেন—শুধু সিদ্ধান্ত নয়, প্রয়োজন কড়া নজরদারি ও শৃঙ্খলা।
ঘটনা নিয়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ। শিক্ষক নেই স্কুলে, তাই ক্লাস ফাঁকা। নিয়োগ নেই, মনিটরিং নেই—তাই ক্লাসরুমেই বিয়ের আসর বসছে। অভিযোগের তির তুলেছেন মাদ্রাসা নিয়োগ নিয়েও।
তৃণমূলের শিক্ষক নেতা সুব্রত মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, “যদি সত্যি এমন ঘটে থাকে, তবে অত্যন্ত লজ্জাজনক। আরও কঠোর তদারকি হলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত।”
এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা মহলে ক্ষোভের ঢেউ। অনেকেই বলছেন—এ শুধু নজরদারির অভাব নয়, পঠনপাঠনের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের অমনোযোগের এক ভয়াবহ ইঙ্গিত।
ক্লাসরুমে বইয়ের পরিবর্তে ‘মালাবদল’—এই ছবি শুধু ভাইরাল নয়, শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের অন্ধকার ছায়া ফেলছে গোটা জেলায়।


























